গর্ভবতী মায়ের কোন মাসে কোন সূরা পড়তে হয়
গর্ভধারণ প্রতিটি নারীর জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল একটি সময়। এই
সময়ে একজন মা যেমন নিজের শারীরিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেন, তেমনি মানসিক ও
আধ্যাত্মিক প্রশান্তির জন্য আল্লাহকে বেশী বেশী স্মরণ করা, কুরআন তিলাওয়াত এবং
সন্তানের সুস্থতা ও কল্যাণের জন্যে বিভিন্ন ধরনের দোয়া আমলের প্রতি মনোযোগ দেন।
অনেক মুসলিম পরিবারে প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে গর্ভাবস্থার বিভিন্ন মাসে নির্দিষ্ট কিছু সূরা পড়লে মা ও অনাগত সন্তানের জন্য কল্যাণকর হয়। ফলে অনেকেই জানতে চান—গর্ভবতী মায়ের কোন মাসে কোন সূরা পড়তে হয়? তাই গর্ভবতী মায়েদের উদ্দেশ্যে আজকের এই আর্টিকেলটি লিখতে চলেছি।
অনেক মুসলিম পরিবারে প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে গর্ভাবস্থার বিভিন্ন মাসে নির্দিষ্ট কিছু সূরা পড়লে মা ও অনাগত সন্তানের জন্য কল্যাণকর হয়। ফলে অনেকেই জানতে চান—গর্ভবতী মায়ের কোন মাসে কোন সূরা পড়তে হয়? তাই গর্ভবতী মায়েদের উদ্দেশ্যে আজকের এই আর্টিকেলটি লিখতে চলেছি।
পেজ সূচিপত্রঃ গর্ভবতী মায়ের কোন মাসে কোন সূরা পড়তে হয়
- গর্ভবতী মায়ের কোন মাসে কোন সূরা পড়তে হয়
- গর্ভাবস্থায় সূরা ইনশিকাক এর ফজিলত
- গর্ভবতী মায়েদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল
- গর্ভাবস্থায় পড়ার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ দোয়া
- গর্ভাবস্থায় কোন সূরা পড়লে বাচ্চা সুন্দর হয়
- প্রচলিত ভিত্তিহীন ধারণা সম্পর্কে সতর্কতা
- গর্ভবতী মায়ের কোন মাসে কোন সূরা পড়তে হয় FAQ’S
- লেখক এর শেষ কথা
গর্ভবতী মায়ের কোন মাসে কোন সূরা পড়তে হয়
গর্ভবতী মায়ের কোন মাসে কোন সূরা পড়তে হয় এই বিষয় নিয়ে আমাদের সমাজে
বিভিন্ন ধরনের ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কোরআন এবং হাদিসে এমন
কোন নির্দিষ্ট প্রমাণ উল্লেখ করা নেই তবে আলেমগণ কুরআন তিলাওয়াতকে
সর্বাবস্থায় বরকতময় ও কল্যাণকর বলে উল্লেখ করেছেন। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু
সূরা বেশি বেশি পড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিভিন্ন আলেম-ওলামাদের মতে গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন মাসে বিভিন্ন সূরা আমল করার
প্রতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। মূলত গর্ভাবস্থায় কোরআন তেলাওয়াত করা খুবই
উত্তম কাজ এতে করে মায়ের মানসিক প্রশান্তি এবং গর্ভের সন্তানের উপর নেতিবাচক
পড়ে। পবিত্র কোরআনের বানী হল ঐশ্বরিক বাণী, গর্ভের সন্তান ২০ তম সপ্তার পর
থেকেই যেকোনো ধরনের শব্দ শোনার যোগ্যতা লাভ করে। এই সময়টাতে একজন মা বেশি বেশি
কোরআন তেলাওয়াত করলে গর্বের সন্তানের উপর এর সুফল প্রতিফলিত হয়।
গর্ভবতী মায়ের কোন মাসে কোন সূরা পড়তে হয় (প্রচলিত) চলুন তা জেনে নেওয়া
যাকঃ
- গর্ভাবস্থার প্রথম মাস (সূরা আল-ইমরানঃ) গর্ভধারণের প্রথম মাস অত্যন্ত নাজুক এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে আল্লাহর কাছে সুস্থ গর্ভাবস্থা ও সন্তানের কল্যাণ কামনা করা উচিত। গর্ভধারণের প্রথম মাসে সূরা আল ইমরান পড়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। এই মাসে বেশি বেশি সূরা আল ইমরান তেলাওয়াতের মাধ্যমে গর্ভের সন্তান উত্তম চরিত্রের অধিকারী লাভ করে। এছাড়াও সূরা আল-ফাতিহা,সূরা ইখলাস,সূরা ফালাক,সূরা নাস পড়ে প্রতিদিন আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও রহমত প্রার্থনা করা যেতে পারে। বিশেষ করে সূরা ফাতিহা শিফা ও বরকতের সূরা হিসেবে পরিচিত।
- গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় মাস (সূরা ইউসুফঃ) গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় মাসে সূরা ইউসুফ তেলাওয়াত করার মাধ্যমে সন্তানের সুন্দর মুখশ্রী ও গুণের বৈশিষ্ট্য লাভ করে। এছাড়াও এই মাসে ভ্রূণের বৃদ্ধি শুরু হয়। তাই এই সময়টাতে বেশি বেশি আল্লাহর সৃষ্টির নিদর্শন সম্পর্কে চিন্তা করা এবং তাঁর মহিমা স্মরণ করা উত্তম। সূরা ইয়াসিন, সূরা রহমানে আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতের বর্ণনা রয়েছে। এটি তিলাওয়াত করলে হৃদয়ে কৃতজ্ঞতা ও প্রশান্তি বৃদ্ধি পায়।
- গর্ভাবস্থার তৃতীয় মাস (সূরা মারইয়ামঃ) পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে গর্ভবতী মায়ের কোন মাসে কোন সূরা পড়তে হয় এমন কোন নির্দিষ্ট দলিল নেই তবুউত্তর গর্ভাবস্থার তৃতীয় মাসে সন্তানের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিকাশ আরও স্পষ্ট হতে থাকে। সূরা মারইয়ামে হযরত মারইয়াম (আঃ) এর ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। একজন গর্ভবতী মা এই সূরা পড়ে ধৈর্য, ঈমান এবং আল্লাহর উপর ভরসার শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন। এছাড়াও এই মাসে সূরা আল-ইমরান তেলাওয়াত করা অত্যন্ত ফজিলত ও বরকতময়।
- গর্ভাবস্থার চতুর্থ মাস (সূরা লুকমানঃ) ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, গর্ভাবস্থার প্রায় ১২০ দিন পরে সন্তানের মধ্যে রূহ ফুঁকে দেওয়া হয় বলে উল্লেখ রয়েছে। সূরা লুকমানে সন্তানকে সুন্দরভাবে মানুষ করার উপদেশ রয়েছে। আর সূরা ইউসুফ চরিত্র গঠন, ধৈর্য ও নৈতিকতার শিক্ষা দেয়। চতুর্থ মাসে সূরা লোকমান পড়ার মাধ্যমে সন্তানের বুদ্ধিমত্তা ও জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য ফলপ্রসু হয়ে থাকে।
- গর্ভাবস্থার পঞ্চম মাস (সূরা ইয়াসিনঃ) পঞ্চম মাসে শিশুর নড়াচড়া অনুভব করা শুরু হতে পারে। সূরা ইয়াসিন সন্তানকে জ্ঞানী ও সুরক্ষিত রাখার জন্য পড়া হয়। এছাড়াও সূরা নূর, সূরা আহযাব সূরাগুলো পারিবারিক জীবন, পবিত্রতা ও নৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে শিক্ষা দেয়।
- গর্ভাবস্থার ষষ্ঠ মাস (সূরা কাহফ, সূরা মুলকঃ) গর্ভাবস্থার ষষ্ঠ মাসে শিশুর শারীরিক বিকাশ ঘটতে শুরু করে। এই সময়টাতে সূরা কাহফ, সূরা মুলক নিয়মিত তিলাওয়াতে অনেক ফজিলত হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। এটি আল্লাহর ক্ষমতা ও সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করতে সাহায্য করে। তাই এই সময়টাতে বেশি বেশি সূরা কাহাফ এবং মূলক পড়া উচিত যার মাধ্যমে আল্লাহর ক্ষমতা ও গুনে শিশু মানবিক গুণ লাভ করে।
- গর্ভাবস্থার সপ্তম মাস (সূরা ইয়াসিন,সূরা দুখাঃ) সপ্তম মাসে মা ও সন্তানের সুস্থতার জন্য বেশি বেশি দোয়া করা উচিত। তাই অনেক আলেম উলামা গর্ভাবস্থার এই সময়ে সূরা ইয়াসিন,সূরা দুখান তিলাওয়াতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য সূরাগুলো পড়ার পরামর্শ দেন। এই সূরা গুলো আমল করার পাশাপাশি সন্তান এবং নিজের জন্য বেশি বেশি দোয়া করা।
- গর্ভাবস্থার অষ্টম মাস (সূরা ইনশিরাহ,সূরা যুমারঃ) সন্তান প্রসবের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মানসিক প্রশান্তি খুবই জরুরি একটি বিষয়। এই সময়টাতে মায়েরা অনেক দুশ্চিন্তা ও হতাশার মধ্যে ডুবে থাকে। তাই গর্ভবতী মায়ের কোন মাসে কোন সূরা পড়তে হয় এই বিষয়ের উপর গুরুত্ব না দিয়ে পবিত্র কোরআন শরীফের যেকোনো সূরাই আমল করা উচিত। তবে সূরা ইনশিরাহ, সূরা যুমার মানুষের কষ্টের পর স্বস্তির সুসংবাদ দেয়। তাই এই সময়টাতে সূরা ইনশিরাহ, সূরা যুমার গর্ভবতী মায়ের মনে সাহস ও আশা জাগাতে সাহায্য করে।
- গর্ভাবস্থার নবম মাস (সূরা মারইয়াম, ফাতিহা, ইখলাস, ফালাক, নাসঃ) গর্ভাবস্থায় নবম মাসে সন্তান প্রসবের প্রস্তুতি শুরু হয়। এ সময় আল্লাহর কাছে সহজ প্রসব ও সুস্থ সন্তানের জন্য দোয়া করা উচিত। সূরা মারইয়াম, সূরা ফাতিহা, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস সহ বেশি বেশি ইস্তিগফার, দুরুদ শরিফ এবং দোয়া পাঠ করা অত্যন্ত উপকারী।
এছাড়াও সূরা আল-ইমরান ও সূরা মুহাম্মাদ গর্ভের সন্তানের নেক আমলি ও চরিত্রবান
হওয়ার নিয়তে পড়া যায়। নিয়মিত আয়াতুল কুরসি এবং চার কুল (সূরা কাফিরুন, সূরা
ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস) পড়ে শরীরে ফুঁ দিলে মা ও অনাগত সন্তান আল্লাহর
রহমতে সুরক্ষিত থাকে।
গর্ভাবস্থায় সূরা ইনশিকাকের ফজিলত
সূরা ইনশিকাক (সুরা নং ৮৪) পবিত্র কুরআনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূরা। আমাদের
সমাজে অনেক মুসলিম পরিবারে বিশ্বাস করা হয় যে গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন সূরা
তিলাওয়াত করলে মা ও অনাগত সন্তানের জন্য কল্যাণ, মানসিক প্রশান্তি এবং
আল্লাহর রহমত লাভ করা যায়। গর্ভবতী মায়ের কোন মাসে কোন সূরা পড়তে হয় এ
নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সংশয় দেখা দেয়।
তবে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে জানা জরুরি, গর্ভাবস্থায় সূরা ইনশিকাক পড়ার বিশেষ কোনো ফজিলত বা নির্দিষ্ট উপকারিতা সম্পর্কে সহীহ হাদিসে সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাই এটিকে নির্দিষ্টভাবে সন্তান সুন্দর হওয়া, সহজ প্রসব হওয়া বা বিশেষ গুণাবলি অর্জনের মাধ্যম হিসেবে নিশ্চিত দাবি করা উচিত নয়।
তবে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে জানা জরুরি, গর্ভাবস্থায় সূরা ইনশিকাক পড়ার বিশেষ কোনো ফজিলত বা নির্দিষ্ট উপকারিতা সম্পর্কে সহীহ হাদিসে সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাই এটিকে নির্দিষ্টভাবে সন্তান সুন্দর হওয়া, সহজ প্রসব হওয়া বা বিশেষ গুণাবলি অর্জনের মাধ্যম হিসেবে নিশ্চিত দাবি করা উচিত নয়।
যদিও গর্ভাবস্থায় সূরা ইনশিকাক পাঠের নির্দিষ্ট ফজিলতের প্রমাণ নেই, তবুও
কুরআন তিলাওয়াতের সাধারণ ফজিলত রয়েছে। গর্ভবতী মা সূরা ইনশিকাকসহ যেকোনো
সূরা তিলাওয়াত করলেঃ
- আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমে হৃদয়ে প্রশান্তি আসে।
- মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমতে সাহায্য করে।
- ইবাদতের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
- অনাগত সন্তানের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করার সুযোগ তৈরি হয়।
- ঘরে আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
“জেনে রাখ, আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের প্রশান্তি লাভ হয়।”
(সূরা আর-রাদ ১৩:২৮)
গর্ভবতী মায়েদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল
গর্ভবতী মায়ের কোন মাসে কোন সূরা পড়তে হয় এই বিষয়ে আমল করার পাশাপাশি
মায়েদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমলের কথা উল্লেখ করা হলো। এ সকল আমলগুলো
নিয়মিত করার মাধ্যমে মায়ের যেমন মানসিক প্রশান্তি আসে তেমনি শারীরিক
সুস্থতা ও ধরে রাখা সহজ হয়। তাই একজন সচেতন মায়ের উচিত নিম্নলিখিত বিষয় বা
আমল গুলোর উপর বিশেষ নজর দেওয়াঃ
- নিয়মিত নামাজ আদায়ঃ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাসময়ে আদায় করলে আত্মিক শান্তি বৃদ্ধি পায় এবং আল্লাহর রহমত লাভ করা যায়। এছাড়াও নামাজ আদায় করা একটি উত্তম প্রকার শারীরিক ব্যায়াম।
- ইস্তিগফার করাঃ নিজের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে বেশি বেশি আস্তাগফিরুল্লাহ পড়া। “আস্তাগফিরুল্লাহ” পড়ার মাধ্যমে আল্লাহর ক্ষমা ও বরকত লাভ করা যায়।
- দুরুদ শরিফ পাঠঃ প্রতিদিন নিয়মিত দুরুদ শরিফ পাঠ করা অতি উত্তম এবাদত। দরুদে ইব্রাহিম সর্বোত্তম দুরুদ শরীফ যা আমরা নামাজের মধ্যে পড়ে থাকি। নবীর প্রতি বেশি বেশি দুরুদ পড়ার মাধ্যমে নবীর শাফায়েত এবং আল্লাহর ভালোবাসা লাভ করা যায়।
- কুরআন তিলাওয়াত করা ও শোনাঃ গর্ভাবস্থায় অবসর সময় না কাটিয়ে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা খুবই উত্তম ইবাদত। যদি তিলাওয়াত করা সম্ভব না হয়, তাহলে কুরআন তিলাওয়াত মনোযোগ দিয়ে শোনাও অনেক সাওয়াবের কাজ।
- হালাল খাদ্য গ্রহণঃ ইসলামে হালাল ও পবিত্র খাদ্য গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গর্ভবতী মায়ের উচিত পুষ্টিকর ও হালাল খাবার গ্রহণ করা। যার দরুন মা এবং গর্ভের সন্তান সুস্থ ও সঠিক বিকাশ লাভ করে।
- ইতিবাচক পরিবেশে থাকাঃ একজন মায়ের গর্ভাবস্থায় তার মানসিকতা কেমন তারই প্রভাব গর্ভের সন্তানের উপর পড়ে। তাই রাগ, হিংসা, ঝগড়া-বিবাদ থেকে নিজেকে দূরে রেখে শান্ত ও সুন্দর পরিবেশে থাকার চেষ্টা করা উচিত।
গর্ভাবস্থায় পড়ার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ দোয়া
গর্ভাবস্থায় প্রতিটি মা’ই অনাগত সন্তানের জন্য খুবই চিন্তিত বোধ করে।
গর্ভধারণের শুরু থেকেই সন্তান জন্মানোর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত একটি ফুটফুটে
সুন্দর ও সু-সন্তানের জন্য আশাবাদী হয়ে থাকে। একটি নেককার এবং সুসন্তান জন্ম
নেওয়ার পেছনে প্রতিটি মায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ
থেকে গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের ধর্মীয় অনুশাসন পালন করার মাধ্যমে গর্ভের
সন্তানের উপরে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই গর্ভাবস্থায় বেশি বেশি ইবাদত
বন্দেগী করা এবং কোরআন তেলাওয়াত করা মা এবং শিশুর প্রশান্তির জন্য খুবই
গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তাই আজকের এই, গর্ভবতী মায়ের কোন মাসে কোন সূরা
পড়তে হয় আর্টিকেলটিতে গর্ভাবস্থায় পড়ার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ দোয়া
নিচে উল্লেখ করছি।
সুস্থ ও নেক সন্তান লাভের দোয়া
বাংলা উচ্চারণঃ রব্বি হাব লি মিন লাদুনকা যুররিয়্যাতান ত্বাইয়্যিবাহ। ইন্নাকা সামীউদ দুআ।
অর্থঃ হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আপনার পক্ষ থেকে পবিত্র ও উত্তম সন্তান দান
করুন। নিশ্চয়ই আপনি দোয়া শ্রবণকারী।
সন্তানকে শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষার দোয়া
বাংলা উচ্চারণঃ উঈযুহা বিকা ওয়া যুররিয়্যাতাহা মিনাশ শাইতানির রাজিম।
অর্থঃ আমি তাকে এবং তার বংশধরদের বিতাড়িত শয়তান থেকে আপনার আশ্রয়ে সমর্পণ
করছি।
গর্ভাবস্থায় কোন সূরা পড়লে বাচ্চা সুন্দর হয়
প্রতিটি গর্ভবতী মা’ই চায় তার গর্ভের সন্তান দেখতে ফুটফুটে সুন্দর হোক,
সুন্দর চরিত্রের এবং গুণের অধিকারী হোক। এ কারণে গর্ভবতী মায়ের কোন মাসে কোন
সূরা পড়তে হয় এই বিষয়টি জানার চেষ্টা করে। পক্ষান্তরে আমাদের সমাজে এটি
একটি প্রচলিত প্রান্ত ধারণা। মূলত গর্ভবতী মায়ের নেক আমল এবং চলাফেরার
শালীনতার ওপর গর্ভের সন্তানের গুণ এবং চরিত্র কেমন হবে তা অনেকাংশে নির্ভর
করে। তাই কোন মা যদি একটি সুন্দর ও সুসন্তান আশা করে তবে তাকে অবশ্যই নিজের
ব্যক্তিগত আমল এবং চলাফেরায় শালীনতা বজায় রাখতে হবে।
একজন উত্তম চরিত্রের মা’ই স্বভাবতোই একটি উত্তম চরিত্রের সন্তান প্রসব
করার সম্ভাবনা দিয়ে থাকে। মায়ের দ্বীনই আমল ও দ্বীনদারীত্বের মাধ্যমেই একটি
সন্তান ধর্মীয় গুণে গুণান্বিত হয়। তাই গর্ভের বাচ্চা সুন্দর হওয়া এবং
সুচরিত্রের অধিকার সহ বিভিন্ন গুণে গুণান্বিত লাভ করার পিছনে মায়ের গুরুত্ব
অপরিসীম। তাই একজন মুসলিম নারী হিসেবে পর্দা করা, নিয়মিত নামাজ আদায় করার
পাশাপাশি, গর্ভাবস্থায় বেশি বেশি নেক আমল করা, পবিত্র কোরআনুল কারীম
তেলাওয়াত করা এবং দান সদকা করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উসিলায়
সুন্দর সন্তানের জন্য দোয়া করা উত্তম পদ্ধতি। তাহলে আশা করা যায় আল্লাহ
তাআলা ওই মাকে একটি নেককার ও সুন্দর সন্তান দান করবে।
প্রচলিত ভিত্তিহীন ধারণা সম্পর্কে সতর্কতা
গর্ভবতী মায়ের কোন মাসে কোন সূরা পড়তে হয় এই বিষয় নিয়ে আমাদের সমাজে
বিভিন্ন ধরনের ভিত্তিহীন কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। তাই একজন গর্ভবতী মাকে এ
সকল কুসংস্কার থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে হবে। সমাজে অনেক সময় বলা হয়ঃ
- প্রথম মাসে নির্দিষ্ট সূরা না পড়লে ক্ষতি হবে।
- ছেলে সন্তান পাওয়ার জন্য বিশেষ সূরা পড়তে হবে।
- নির্দিষ্ট মাসে নির্দিষ্ট সূরা না পড়লে সন্তান অসুস্থ হবে।
এসব বিশ্বাসের পক্ষে সহিহ কুরআন বা হাদিসে কোনো প্রমাণ নেই। তাই এ ধরনের ধারণাকে ইসলামের বাধ্যতামূলক বিধান মনে করা উচিত নয়। বরং পুরো কুরআনই বরকতময়। যে কোনো সূরা তিলাওয়াত করা সওয়াবের কাজ এবং কল্যাণের মাধ্যম।
গর্ভবতী মায়ের কোন মাসে কোন সূরা পড়তে হয় FAQ’S
প্রশ্নঃ গর্ভবতী মায়ের কোন মাসে কি আমল?
উত্তরঃ গর্ভবতী মায়ের নির্দিষ্ট মাসে নির্দিষ্ট কোন আমলের কথা কোরআন
হাদিসে উল্লেখ নেই। তবে গর্ভাবস্থায় বেশি বেশি নেক আমল করা, কোরআন পড়া
এবং দান সদগা করা অতি উত্তম কাজ এবং মা ও গর্বের সন্তানের জন্য দোয়া করা
বাঞ্ছনীয়।
প্রশ্নঃ গর্ভাবস্থায় সন্তান সুস্থ থাকার দোয়া?
উত্তরঃ অনাগত সন্তানকে যাবতীয় অনিষ্ট ও শয়তানের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে
প্রতিদিন এই দোয়াটি পড়া যায়ঃ
আরবিঃ أُعِيذُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنَ الشَّيْطَانِ
الرَّجِيمِ
বাংলা উচ্চারণঃ উঈযুহা বিকা ওয়া যুররিয়্যাতাহা মিনাশ শাইতানির রাজিম।
অর্থঃ
আমি তাকে এবং তার সন্তান-সন্ততিকে বিতাড়িত শয়তান থেকে আপনার আশ্রয়ে
সমর্পণ করছি। (সূরা আলে ইমরান-৩৬)
প্রশ্নঃ সহজ ও নিরাপদ প্রসবের জন্য দোয়া।
উত্তরঃ গর্ভাবস্থায় সহজে নিরাপদ সন্তান প্রসবের জন্য একজন মা নিম্নলিখিত
দোয়াটি নিয়মিত আমল করতে পারেন।
আরবিঃرَبِّ يَسِّرْ وَلَا تُعَسِّرْ وَتَمِّمْ بِالْخَيْرِ
বাংলা উচ্চারণঃ রাব্বি ইয়াসসির ওয়ালা তুআসসির, ওয়া তাম্মিম বিল খাইর।
অর্থঃ
হে আল্লাহ! সহজ করে দিন, কঠিন করবেন না এবং কল্যাণের সাথে সম্পন্ন
করুন।
প্রশ্নঃ গর্ভবতী মায়ের দোয়া কি কবুল হয়?
উত্তরঃ হ্যাঁ। গর্ভবতী মায়ের দোয়া কবুল হয়, হাদিসে সন্তানের জন্য
পিতা-মাতার দোয়া কবুল হওয়ার কথা বলা হয়েছে। মায়ের মমতা যেহেতু
নিঃস্বার্থ ও গভীর, তাই মায়ের দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করে।
লেখক এর শেষ কথা
গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের জন্য কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া, জিকির এবং আল্লাহর
স্মরণ অত্যন্ত উপকারী আমল। তবে প্রতিটি মাসের জন্য নির্দিষ্ট সূরা পড়া
বাধ্যতামূলক, এমন কোনো সহিহ ইসলামিক দলিল নেই। তাই কোনো সূরাকে বিশেষ মাসের
সঙ্গে আবশ্যিক ভাবে যুক্ত না করে নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করা, নামাজ আদায়
করা, দুরুদ শরিফ পাঠ করা এবং আল্লাহর কাছে সুস্থ, নেক ও দ্বীনদার সন্তানের
জন্য দোয়া করা উচিত। গর্ভবতী মায়ের কোন মাসে কোন সূরা পড়তে হয় এই বিষয়
নিয়ে পেরেশানির কিছু নেই।
মনে রাখতে হবে, একজন সন্তানের উত্তম চরিত্র গঠনের ভিত্তি শুরু হয় সেই
গর্ভধারিনী মায়ের ঈমান, তাকওয়া, আমল এবং আল্লাহর প্রতি নির্ভরতার
মাধ্যমে। তাই প্রতিটি গর্ভবতী মায়ের উচিত গর্ভাবস্থার পুরো সময়টিকে
আল্লাহর স্মরণ, কুরআন তিলাওয়াত এবং নেক আমলে পরিপূর্ণ রাখাই একজন মুসলিম
মায়ের জন্য সর্বোত্তম পথ।



“সফল প্লাস” এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url