ইসলামে বিড়াল পালনের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
ইসলামে বিড়াল পালনের উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের অনেকের সঠিক জ্ঞান না থাকার
কারণে, ঘরে বা বাসা বাড়িতে বিড়াল পুষতে দ্বিধাবোধ করি। পক্ষান্তরে ইসলাম কিন্তু
ঘরে বিড়াল পোষা বৈধ অর্থাৎ জায়েজ বলেছে এবং এটি অত্যন্ত সাওয়াবের কাজ হিসেবে
বিবেচিত।
আমাদের মহানবী (সাঃ) বিড়াল ভালবাসতেন এবং তিনি তার ওযুর পাত্র থেকে বিড়ালকে পানি পান করাতেন। ইসলাম ধর্মে বিড়ালকে পবিত্র প্রাণী হিসেবে আখ্যায়িত হয়। বাড়িতে বিড়াল পালন করলে একাকীত্ব দূর হয় এবং মানসিক প্রশান্তি আসে। আসুন ইসলামে বিড়াল পালনের উপকারিতা কি এবং বিড়াল পালন সম্পর্কে ইসলাম কি বলে, সেই সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
আমাদের মহানবী (সাঃ) বিড়াল ভালবাসতেন এবং তিনি তার ওযুর পাত্র থেকে বিড়ালকে পানি পান করাতেন। ইসলাম ধর্মে বিড়ালকে পবিত্র প্রাণী হিসেবে আখ্যায়িত হয়। বাড়িতে বিড়াল পালন করলে একাকীত্ব দূর হয় এবং মানসিক প্রশান্তি আসে। আসুন ইসলামে বিড়াল পালনের উপকারিতা কি এবং বিড়াল পালন সম্পর্কে ইসলাম কি বলে, সেই সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
পেজ সূচিপত্রঃ ইসলামে বিড়াল পালনের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।
- ইসলামে বিড়াল পালনের উপকারিতা কি
- বিড়াল ঘরের পরিবেশ শান্ত ও আনন্দময় করে তোলে
- বিড়াল শিশুদের মধ্যে দায়িত্ব ও মমত্ববোধ সৃষ্টি করে
- বিড়াল মানসিক চাপ ও একাকীত্ব দূর করতে সাহায্য করে
- বিড়াল পালন করলে সাওয়াব ও পরিবারে বরকত বৃদ্ধি পায়
- বিড়াল ইঁদুর-ছুঁচো ও ক্ষতিকারক প্রাণী থেকে রক্ষা করে
- বিড়াল অশুভ শক্তি ও জিনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে
- গর্ভাবস্থায় বিড়াল পোষা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ
- বিড়ালের সাথে ঘুমালে কি হয় ?
- মহানবী (সাঃ) কেন ঘরে বিড়াল পালতেন
- বিড়ালের সবচেয়ে বড় শত্রু প্রাণী কোনটি
- কোন রঙের বিড়াল কেমন হয়
- বিড়াল কি মোবাইল ফোন দেখতে পারে
- ইসলামে বিড়াল পালনের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুনঃ FAQ’S
- লেখকের শেষ কথা
ইসলামে বিড়াল পালনের উপকারিতা কি
আমরা অনেক সময় শখের বসে আমাদের ঘরে বা বাসা বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের পশুপাখি
পালন করে থাকি। এতে পোষা প্রাণীটি আমাদের মানসিক প্রশান্তি ও আনন্দ বৃদ্ধির
কারণ হয়ে থাকে। তবে নিজেদের আনন্দের জন্য কখনোই কোন প্রাণীকে কষ্ট
দেওয়া উচিত নয়। সাধারণত আমরা বাড়িতে সবচেয়ে বেশি যে প্রাণীটি পুষে থাকি
সেটি হল বিড়াল। আর ইসলামে বিড়াল পালনের উপকারিতা কি এই বিষয়ে, আজকের
আর্টিকেল এর মাধ্যমে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।
প্রথমেই আমরা জানবো যে, ঘরে বা বাসা বাড়িতে বিড়াল পোষা জায়েজ কিনা ! উত্তর
হল হ্যাঁ। অবশ্যই ঘরে বা বাসা বাড়িতে বিড়াল পোষা জায়েজ। ইসলাম ধর্মে
বিড়াল পোষাকে সম্পূর্ণ জায়েজ এবং উত্তম কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। কারণ
মহান আল্লাহ তায়ালা প্রতিটি প্রাণীর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং ভালোবাসা
দেখানোর কথা পবিত্র কোরআন মাজীদের উল্লেখ করেছেন। তাই আল্লাহর সৃষ্টি বিভিন্ন
প্রাণীর প্রতি দয়া ও ভালবাসা প্রদর্শনের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও রহমত
লাভ করা যায়।
আরোও পড়ুনঃ বাড়িতে কুকুর পোষা জায়েজ নাকি হারাম
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) প্রাণীর প্রতি দয়া দেখাতে বলেছেন। যে ব্যক্তি
বিড়ালের মত একটি সুন্দর ও নিরীহ প্রাণীকে যত্ন নেয় ও দয়া করে আল্লাহ তা'আলা
তার প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং তাকে ক্ষমা করেন। নবী কারীম (সাঃ) বিড়ালকে খুব
ভালবাসতেন তিনি কখনো বিড়ালকে নাপাক বা অপবিত্র প্রাণী বলেন নি। এমনকি
বিড়ালের এটো করা পানি দিয়ে ওযু করা জায়েজ বলেছেন।
ঘরে বা বাসা বাড়িতে বিড়াল পোষা, বিড়ালকে খাবার দেওয়া এবং যত্ন নেওয়া
সদগা বা দান হিসেবে গণ্য করা হয়। আল্লাহ তাআলা এর প্রতিদান আখিরাতে দান
করবেন। তাই বিড়াল পোষার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে কোনোভাবেই অভুক্ত রেখে বা
আটকে রেখে কষ্ট দেওয়া যাবে না। তাকে পর্যাপ্ত খাবার ও পানি দিতে হবে এবং তার
যত্ন নিতে হবে, অসুস্থ হলে চিকিৎসা সেবা দিতে হবে।
বিড়াল ঘরের পরিবেশ শান্ত ও আনন্দময় করে তোলে
একটি সুন্দর ফুটফুটে আদুরে বিড়াল ঘরের পরিবেশকে শান্ত ও আনন্দময় করে
রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ঘরোয়া পরিবেশে বড় হওয়া একটি
বিড়াল তার আদুরে স্বভাব, নানান রকম দুষ্টুমি ও খেলাধুলা করার মাধ্যমে ঘরকে
প্রাণবন্ত ও আনন্দমুখর করে তোলে। পোষা বিড়াল পরিবারের সদস্যদের কাছে সব
সময় ঘোরাঘুরি করে তাদের আদর ভালবাসা পেতে চাই।
পরিবারের বিভিন্ন সদস্যর কাছে বিড়ালটি বিভিন্ন ধরনের আচরণ পেয়ে থাকে।
এক্ষেত্রে বিড়ালটি যাকে তার নিজের জন্য নিরাপদ এবং যত্নশীল হিসেবে বুঝতে
পারে, তার কাছে সে বেশি ঘোরাঘুরি করতে পছন্দ করে। বিড়ালের শরীরের কমল
তাপমাত্রা ও নিরব শান্ত উপস্থিতি মানুষের শরীরের স্ট্রেস হরমোন কমানোর
মাধ্যমে মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এতে করে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে
বিষন্নতা দূর হয়। পরিবারের সবাই ঘরে পোষা বিড়ালের সাথে কথা বলা ও
খেলাধুলা করার মাধ্যমে ঘরের পরিবেশ আনন্দময় করে তোলে।
মূলত বিড়াল প্রাকৃতিকভাবেই একটি শান্ত ছোট প্রাণী। বেশি গ্যাঞ্জাম এবং
হট্টগোল পরিবেশ বিড়াল পছন্দ করেনা। তাই ঘরে বা বাসা বাড়িতে বিড়াল পোষার
জন্য ঘরের পরিবেশ নিরাপদ, আরামদায়ক এবং নিরিবিলি রাখা উচিত। ইসলামে বিড়াল
পালনের উপকারিতা সমূহের মধ্যে সবচেয়ে অন্যতম বিষয় হলো বিড়াল শান্ত
প্রকৃতির প্রাণী এবং পবিত্র হওয়ার দরুন একটি ঘরের পরিবেশ শান্ত ও আনন্দময়
করে রাখে। তাই বিড়ালকে শুধুমাত্র ঘরের এক কোণে আটকে না রেখে তার জন্য
খোলামেলা সুন্দর পরিবেশ ও খেলাধুলার ব্যবস্থা রাখা জরুরি।
বিড়াল শিশুদের মধ্যে দায়িত্ব ও মমত্ববোধ সৃষ্টি করে
ইসলামে বিড়াল পালনের উপকারিতা সম্বন্ধে বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায।
ঘরে বিড়াল পালন জায়েজ হওয়ার পেছনে যথেষ্ট যুক্তিক কারণ বিদ্যমান। যে ঘরে
বা বাড়িতে বিড়াল পোষা হয় সেই বাড়িতে থাকা ছোট শিশুদের মধ্যে
দায়িত্ববোধ ও মমত্ববোধ সৃষ্টি হয়। কারণ বাড়িতে পোষা একটি ছোট বিড়াল কে
সন্তানের মত যত্ন ও পরিচর্যা করে বড় করতে হয়। এতে করে পরিবারের সদস্যদের
মধ্যে বিড়ালের প্রতি যেমন দায়িত্ববোধ কাজ করে তেমনি মমত্ববোধ ও সৃষ্টি
হয়।
ছোট ছোট বাচ্চারা একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন বিড়ালকে খুবই পছন্দ করে এবং
বিড়ালের সাথে খেলতে ভালোবাসে। তারা পরিবারের মানুষের কাছ থেকে বিড়ালের
প্রতি যে সকল যত্ন ও পরিচর্যা করা দেখে শিখে, তা তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও
মমত্ববোধ জন্মাতে সাহায্য করে। তারা শিখে কিভাবে একটি প্রাণীকে আদর করতে
হয়, কিভাবে যত্ন করতে হয়, কিভাবে খাওয়াতে হয়, কিভাবে তাদের সাথে খেলতে
হয় ইত্যাদি।
অনেক সময় দেখা যায় বাড়িতে পোষা বিড়াল যখন অসুস্থ হয় তখন পরিবারের
সদস্যদের মন খারাপ থাকে, এমনকি ছোট ছোট বাচ্চারাও বিড়ালের জন্য কান্না
করে। এই ধরনের মানসিক অবস্থায় প্রমাণ করে ঘরে পোষা বিড়ালের প্রতি তাদের
মামত্ববোধ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও বিড়ালের সুস্থতার জন্য সবাই চিন্তিত
থাকে এবং সুস্থতার জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করে যা তাদের দায়িত্ববোধের
বহিঃপ্রকাশ। এভাবেই বিড়াল পোষার মাধ্যমে পরিবারের বড়দের কাছ থেকে ছোট
বাচ্চারা প্রাণীর প্রতি তাদের দায়িত্ববোধ ও মমত্ববোধের শিক্ষা পেয়ে
থাকে।
বিড়াল মানসিক চাপ ও একাকীত্ব দূর করতে সাহায্য করে
ঘরে বা বাড়িতে বিড়াল পোষার মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের মানসিক চাপ ও
একাকীত্ব দূর করনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। একটি সুন্দর, কোমল, পরিচ্ছন্ন
গুলু মুলু বিড়ালের উপস্থিতি মানুষের মস্তিষ্কের ডোপামিন এবং সেরোটোনিনের
মত হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। যা মানুষের মন প্রফুল্ল রাখতে সাহায্য
করে। বিড়ালকে কোলে করে তার গায়ে হাত বুলালে অথবা তার সাথে ১০ থেকে ১৫
মিনিট গল্প করলে বা খেলা করে সময় কাটালে স্ট্রেস হরমোন বা কোর্টিসল এর
মাত্রা উল্লেখযোগ্য হবে হ্রাস পায়।
এছাড়াও একাকীত্ব দূর করতে বিড়াল অন্যতম ভূমিকা পালন করে। যারা বিষন্নতা
বা হতাশায় ভোগে তাদের অবশ্যই উচিত বিড়াল পোষা। কারণ বিড়াল এমন এক
বিশ্বস্ত সঙ্গী যার উপস্থিতি, খুনসুটি এবং খেলাধুলা মনের মধ্যে একাকীত্ব
বোধ, হতাশা ও অবসাদ দূর করে। মূলত বিড়ালকে আদর করার সময় বা বিড়াল যখন
মানুষের শরীরে মুখ ঘষে তখন অক্সিটক্সিন হরমোন (লাভ হরমোন) নিঃসৃত হয় যা
মানসিক প্রশান্তি বয়ে আনে।
বিড়ালের গড় গড় শব্দ হাড় ও পেশির পুনর্গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
‘ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডো বউল্ডার’য়ের করা গবেষণায় দেখা গেছে হৃদরোগের
ঝুঁকি কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বিড়াল পোষা কার্যকরী
ভূমিকা রাখে। এছাড়াও অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসকল দম্পতিরা ঘরে
বেড়াল পোষে তাদের মানসিক চাপের পরিস্থিতিতে, সাধারণত স্থির থাকে এবং
তাদের হৃদয় স্পন্দন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। যেসকল ব্যক্তি
বিড়াল পোষে তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য ভাবে
কম হয়। বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞান ইসলামে বিড়াল পালনের উপকারিতা কে সমর্থন
করে।
বিড়াল পালন করলে সাওয়াব ও পরিবারে বরকত বৃদ্ধি পায়
বিড়াল এমন একটি নমনীয় ও কমল ছোট প্রাণী, যা ঘরে বা বাসা বাড়িতে
পরিবারের মানুষের সাথে লালন পালন যায়। ইসলামে বিড়াল পালনের উপকারিতা
সম্পর্কে বলা হয়েছে, যেই ঘরে বা বাড়িতে বিড়াল পালন করা হয় সেই
পরিবারের মানুষের সাওয়াব বৃদ্ধি পায় ও পরিবারের বরকত আসে। তবে
এক্ষেত্রে বিড়ালকে বাড়িতে পোষার জন্য গ্রহণ করার পর তাকে খাবার এবং
পানীয় সরবরাহ করতে হবে। তাকে কখনো অনাহারে বা সব সময় খাঁচাতে আটকে
রাখা যাবে না।
ইসলামে বিড়াল একটি অত্যন্ত সম্মানিত ও পবিত্র প্রাণী, তাই তাকে স্বাচ্ছন্দ মতো থাকতে দিতে হবে। মহানবী (সাঃ) বিড়ালকে পবিত্র প্রাণী হিসেবে গণ্য করেছেন। এমনকি বিড়ালের মুখ লাগানো পানি ব্যবহার করা যাবে। তাই বিড়ালকে ঘৃণা করা বা আঘাত করা কখনোই উচিত নয়। বরং বিড়ালের প্রতি সদয় ও দয়া দেখালে আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং তার ভালো কাজের প্রতিদান হিসেবে তাকে ক্ষমা করেন।
ইসলামে বিড়াল একটি অত্যন্ত সম্মানিত ও পবিত্র প্রাণী, তাই তাকে স্বাচ্ছন্দ মতো থাকতে দিতে হবে। মহানবী (সাঃ) বিড়ালকে পবিত্র প্রাণী হিসেবে গণ্য করেছেন। এমনকি বিড়ালের মুখ লাগানো পানি ব্যবহার করা যাবে। তাই বিড়ালকে ঘৃণা করা বা আঘাত করা কখনোই উচিত নয়। বরং বিড়ালের প্রতি সদয় ও দয়া দেখালে আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং তার ভালো কাজের প্রতিদান হিসেবে তাকে ক্ষমা করেন।
মূলত ইসলামে যেকোনো প্রাণীকে কষ্ট দেওয়া বা আঘাত করা খুবই গৃহীত ও
ঘৃণিত কাজ। তাই অযথা কোন প্রাণীকে কষ্ট দেওয়া কখনোই ঠিক নয়।
পক্ষান্তরে, কোন প্রাণীকে আঘাত বা কষ্ট দেওয়ার ফলে কঠিন শাস্তির কথা
বলা হয়েছে। বিড়াল যেহেতু পবিত্র ও সম্মানিত প্রাণী তাই তাকে ঘরে
লালন-পালনের মাধ্যমে ইসলামিক অনুশাসন মান্য করে ব্যক্তিগতভাবে সাওয়াব
ও পারিবারিক বরকত লাভ করা যায়।
বিড়াল ইঁদুর-ছুঁচো ও ক্ষতিকারক প্রাণী থেকে রক্ষা করে
বিড়াল ঘরোয়া পরিবেশে লালিত পালিত হওয়া একটি সরল প্রাণী, তবে বাসা
বাড়িতে থাকা ইঁদুর, ছুঁচো এ জাতীয় প্রাণী দেখলে বিড়াল খুবই
চাঞ্চল্যকর হয়ে ওঠে। ইসলামে বিড়াল পালনের উপকারিতা সম্পর্কে, এ
জাতীয় ক্ষতিকারক প্রাণী থেকে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্রকে ক্ষতির হাত
থেকে রক্ষা করতে বিড়ালের আক্রমণাত্মক আচরণ বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
বিড়াল যে ইঁদুর জাতীয় প্রাণীকে আক্রমণের মধ্যে বিশেষ আনন্দ পাই
একথা বলাই যায়।
বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ধান, গম, ভুট্টা ইত্যাদির মৌসুমে ফসল ঘরে আনার
পর ইঁদুর, ছুঁচো জাতীয় ক্ষতিকর প্রাণীর উৎপাত অনেক বেড়ে যায়। এ
সময় আপনি যদি বাড়িতে একটি বিড়াল পুষে থাকেন তাহলে সে আপনার জন্য
এক বিশেষ ধরনের সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করবে। তাছাড়াও এ সকল
ক্ষতিকারক প্রাণী, বিড়াল দেখলে খুবই ভয় পাই। ধানের গোলা বা যেখানে
বিভিন্ন ধরনের ফসল রাখা হয়, তার সরু কোণা গুলোতে বিড়াল খুব সহজেই
ঢুকে এ সকল প্রাণীকে মেরে ফেলতে পারে।
তবে এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিড়াল ইঁদুর জাতীয় ছোট
প্রাণীকে প্রাকৃতিকভাবেই স্বীকার করে এবং খেয়ে ফেলে। এটি তাদের একটি
স্বভাবজাত প্রবৃত্তি। তবে ঘরে পোষা বিড়ালের ক্ষেত্রে এর ভিন্নটাও
লক্ষ্য করা যায়। ঘরে পোষা বিড়াল গুলো পর্যাপ্ত খাবার পায় ফলে তারা
স্বভাবজাত প্রবৃত্তির কারণে ইঁদুর বা ছুঁচো জাতীয় প্রাণীকে ধরে মেরে
ফেলে, কিন্তু খায় না। আর যদি কখনো পরজীবীতে আক্রান্ত অথবা বিষ
খাওয়া কোন ইঁদুরকে বিড়াল খেয়ে ফেলে তবে সেটি তার জন্য ক্ষতির কারণ
হতে পারে। তাই আপনারা যারা ঘরে বা বাসা বাড়িতে শখ করে বিড়াল পুষে
থাকেন তারা এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন।
বিড়াল অশুভ শক্তি ও জিনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে
ইসলামে বিড়াল পালনের উপকারিতা সম্পর্কে বলতে গেলে, ঘরে বা বাসা
বাড়িতে বিড়াল পালন করা জায়েজ এবং বিড়ালকে উত্তম ও পবিত্র
প্রাণী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে বিড়াল অশুভ শক্তি ও জিনের
ক্ষতি থেকে আমাদের রক্ষা করে, কোরআন ও হাদিসের আলোকে এমন কোন
প্রমাণ পাওয়া যায় না। এই ধারণাটি মূলত বিভিন্ন লোকজ বিশ্বাস,
আধ্যাত্মিক চর্চা ও অতিপ্রাকৃত ঘটনা সম্পর্কিত পুরনো লোকসংস্কৃতি
থেকে এসেছে।
তবে একথা সত্য যে, বিড়ালের ইন্দ্রিয় শক্তি খুবই প্রখর। বিশেষ করে
বিড়ালের ঘ্রাণ শক্তি, দৃষ্টিশক্তি এবং শ্রবণশক্তি অন্যান্য
প্রাণীর তুলনায় বেশি। অনেক সময় বিড়াল কোন দিকে (শূন্যে) এমন
ভাবে তাকিয়ে থাকে বা ভিন্ন রকম প্রতিক্রিয়া দেখায়, যেন সে
অদৃশ্য কোন কিছুর উপস্থিতি টের পাচ্ছে। যেখানে মানুষের চোখের
মাধ্যমে কোন কিছু দেখা যাচ্ছে না। এই থেকে ধারণা করা হয় যে, বিড়াল
অশুভ শক্তি বা জ্বীনের উপস্থিতি উপলব্ধি বা দেখতে পারে।
আরোও পড়ুনঃ বিড়াল মারা যাওয়ার আগে যে লক্ষণ প্রকাশ করে
অনেক সময় দেখা যায় বিড়াল হঠাৎ করে জোরে জোরে গর্জন বা ফোঁসফোঁস
শব্দ করে। বিড়ালের এই ধরনের আচরণ দেখে লোকসমাজে বিশ্বাস করা হয়,
এইভাবে সে অশুভ শক্তি বা খারাপ জ্বীনদেরকে ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে
দেয়। আবার মাঝে মাঝে ঘরের নির্দিষ্ট কোণে গিয়ে বিড়াল অকারণে
মাটি আঁচড়াতে শুরু করে বা ঘেউ ঘেউ করে। লোকসমাজের ধারণা সেই
জায়গাতে হয়তো কোন অশুভ শক্তি বা খারাপ কিছু রয়েছে যেটাকে বিড়াল
আক্রমণ করেছে।
ঘরে বা বাসা বাড়িতে যে সকল বিড়াল পোষা হয়, তারা সাধারণত বাড়ির
মানুষের ঘুমানোর বা বিশ্রামের সময় গা ঘেঁষে শুয়ে থাকে। এতে করে
বিড়াল অশুভ আত্মা বা দুষ্ট জ্বীন থেকে বাড়ির মানুষকে সুরক্ষা
দেয় বলে অনেকেই বিশ্বাস করে। তাই বিড়ালকে ঘরের সুরক্ষায়
আধ্যাত্মিক শক্তির নোঙ্গর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তবে যাই হোক,
যেহেতু অশুভ শক্তি ও জ্বীনের হাত থেকে বিড়াল আমাদের রক্ষা
করে এমন কোন, কোরআন ও হাদিসের আলোকে প্রমাণ নেই। তাই অশুভ শক্তি ও
দুষ্টু জিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে
আয়াতুল কুরসি, সুরা ফালাক, সুরা নাস ইত্যাদি পাঠ করা উচিত।
গর্ভাবস্থায় বিড়াল পোষা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ
গর্ভাবস্থায় বিড়াল পোষা যাবে কিনা, এই বিষয় নিয়ে পরিবারের
সদস্যদের মধ্যে বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের মনে একটি সাধারন
প্রশ্ন জন্ম দেয়। ইসলামে বিড়াল পালনের উপকারিতা সম্পর্কে
ইতিমধ্যে আমরা জেনেছি, ইসলাম বিড়াল পোষা জায়েজ এবং এটি পবিত্র ও
উত্তম প্রাণী হিসেবে গণ্য করেছে। ফলে গর্ভাবস্থায় বিড়াল পোষা
খারাপ বা ভয়ের কিছু নেই। তবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে
যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে হবে।
গর্ভাবস্থায় বিড়াল পালনের সঠিক নিয়ম, সর্তকতা এবং
স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে করণীয় কিছু বিষয়ঃ
- লিটার বক্স পরিষ্কার না করাঃ গর্ভাবস্থায় আপনাকে বিড়ালের মলমূত্র অর্থাৎ লিটার বক্স পরিষ্কার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ বিড়ালের মলে 'টক্সোপ্লাজমোসিস' নামক একটি সংক্রমণ থাকে। যা আপনার শরীর বা গর্ভের সন্তানের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় লিটার বক্স পরিষ্কার এর কাজটি পরিবারের অন্য কেউ করাই উত্তম। আর যদি একান্তই আপনাকে করার প্রয়োজন হয়, তবে অবশ্যই ডিসপোজেবল গ্লাভস পড়ে নিবেন এবং কাজ শেষে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে ফেলুন।
- খাবারের ব্যাপারে সতর্কতাঃ আপনার ঘরে পোষা বিড়ালকে কাঁচা বা রান্না না করা মাছ-মাংস বা এ জাতীয় খাবার খেতে দিবেন না। কারণ এই ধরনের কাঁচা জাতীয় খাবার থেকে বিড়াল সংক্রমিত হতে পারে, যা আপনার জন্যও ক্ষতির কারণ। যেহেতু ঘরে পোষা বিড়াল সবসময় আপনার সংস্পর্শে থাকে তাই আপনার বিড়াল যেন সংক্রমিত না হয় এ ব্যাপারে আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে।
- বাইরের বিড়ালের সাথে মিশতে না দেওয়াঃ ঘরে বা বাসা বাড়িতে পোষা বিড়াল অনেক সময় বাড়ির বাইরে চলে যায় এবং অন্যান্য অনেক বিড়ালের সাথে মেলামেশা করে। যার ফলে আপনার বিড়াল সুস্থ থাকলেও অন্যান্য বিড়াল থেকে সংক্রমিত হতে পারে। তাই আপনার শখের বিড়ালকে ঘরেই রাখুন এবং বাইরের বা অপরিচিতা বিড়ালের সংস্পর্শ থেকে সরিয়ে রাখুন।
- বিড়ালের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাঃ আপনার ঘরে বা বাসা বাড়িতে পোষা বিড়ালের, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শখের বিড়ালের শরীরে কোন অসুখ-বিসুখ আছে কিনা অথবা বিড়ালের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে ‘টক্সোপ্লাজমোসিস’ সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছে কিনা ইত্যাদি ভালো কোন ভেটেরিনারি ডাক্তারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে নিতে পারেন।
আপনি গর্ভাবস্থায় অবশ্যই আপনার ঘরে বা বাড়িতে বিড়াল পুষতে
পারেন তবে এক্ষেত্রে আপনাকে উপরুক্ত বিষয়গুলো মেনে চলতে
হবে। তাহলেই বিড়াল পোষ আপনার জন্য নিরাপদ ও ঝুঁকিহীন হবে।
এছাড়াও আপনার বিভিন্ন ধরনের দুশ্চিন্তা এড়াতে ভালো কোন
গাইনোলজিস্ট ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন যার দরুন আপনি আপনার
প্রিয় বিড়ালকে কাছে রাখতে পারবেন।
বিড়ালের সাথে ঘুমালে কি হয়
বিড়াল এমন একটি প্রাণী যা মানুষের গা ঘেঁষে থাকতে পছন্দ করে।
ইসলামে বিড়াল পালনের উপকারিতা সম্পর্কে বলা হয়েছে, বিড়াল
হচ্ছে আমাদের আশেপাশে ঘোরাফেরা করা প্রাণী এবং এটি পবিত্র ও
উত্তম। তাই আপনি আপনার পোষা বিড়ালের সাথে ঘুমাতে পারেন তবে
এক্ষেত্রে আপনাকে বিড়ালের স্বাস্থ্যবিধে মেনে চলতে হবে।
বিড়ালকে নিয়মিত গোসল করানো, সঠিক সময়ের টিকা দেওয়া, কৃমিনাশক
ঔষধ খাওনো ইত্যাদি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।
বিড়ালের সাথে ঘুমালে যেসকল সুবিধা পাওয়া যায়ঃ
- শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তিঃ বিড়ালের শরীর থেকে নিঃসৃত ‘ঘড় ঘড়’ শব্দ মানুষের শরীরের রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে এবং অস্থিরতা বা মানসিক চাপ কমিয়ে প্রশান্তি দান করে। যা একজন মানুষকে দ্রুত ঘুমিয়ে যেতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
- উষ্ণ তাপ ও আরামঃ সাধারণত মানুষের শরীরের তাপমাত্রা থেকে বিড়ালের শরীরের তাপমাত্রায় কিছুটা বেশি হয়ে থাকে। তাই শীতের রাতে বিড়ালের সাথে ঘুমালে, লেপের মধ্যে বিড়াল শরীর ঘেঁষে থাকলে উষ্ণতা ও বেশ আরাম পাওয়া যায়।
- স্টেস বা একাকীত্ব দূর করেঃ আপনার পোষা বিড়াল সব সময় আপনার আশেপাশে বা শরীর ঘেঁষে থাকতে পছন্দ করে। তাই আপনি যখন তাকে কোলে করে আদর করবেন বা তার সাথে খেলাধুলা করবেন, এর মাধ্যমে বিড়াল আপনার স্টেস বা একাকীত্ব দূর করতে সাহায্য করবে।
বিড়াল নিয়ে ঘুমানোর কিছু ঝুঁকি বা অসুবিধাও রয়েছেঃ
- বিছানা নোংরা করাঃ স্বাস্থ্য সচেতনতা মেনে বিড়াল নিয়ে ঘুমানো যেতে পারে তবে বিড়ালের শরীরের লোম বিছানায় লেগে বিছানা নোংরা হয়ে থাকে। আবার কখনো কখনো বিড়াল বিছানায় প্রসাব বা মলমূত্র ত্যাগ করে ফেলতে পারে ইত্যাদি।
- এলার্জি সম্ভাবনাঃ ঘরে পোষা বিড়াল অনেক সময় বাইরের পরিবেশের বিড়ালের সাথে মিশে বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক বা ব্যাকটেরিয়া বহন করতে পারে। যা আপনার শরীরে এলার্জি বা বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
- ঘুমের ব্যাঘাত সৃষ্টিঃ আপনি যখন রাতে আপনার পোষা বিড়ালকে কোলের মধ্যে নিয়ে ঘুমাবেন তখন সে আপনার সাথে চুপচাপ না ঘুমিয়ে ছোটাছুটি করতে পারে। কারণ বিড়াল নিশাচর স্বভাবের প্রাণী হওয়ায়, এই ধরনের কাজের মাধ্যমে আপনার ঘুমের ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে।
মহানবী (সাঃ) কেন ঘরে বিড়াল পালতেন
আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) প্রতিটি প্রাণীর ব্যাপারে
ছিলেন খুবই কমল এবং দয়াবান। তিনি সকল ধরনের প্রাণীর প্রতি
ইনসাফ ও দয়া দেখাতেন এবং আমাদেরকেও তা পালনের নির্দেশ
দিয়েছেন। ইসলামে বিড়াল পালনের উপকারিতা সম্পর্কে নবী করীম
(সাঃ) বলেছেন, বিড়াল একটি উত্তম,পবিত্র ও আত্মমর্যাদা
সম্পন্ন প্রাণী। বিড়াল খুব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন প্রাণী
হাওয়াই তিনি বিড়াল পছন্দ করতেন এবং নিজেও ঘরে বিড়াল
পুষতেন।
নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, বিড়াল কোন পাত্রে বা পানিতে মুখ
দিলে সেই পাত্রের খাবার বা পানি নাপাক হয় না। আবার বিড়াল
মানুষের ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্রের মতোই একটি সাধারন প্রাণী।
তাই এরা অন্দরমহল থাকতে পারে এবং অজু বা নামাজের ক্ষেত্রে
কোন ধরনের ব্যাঘাত ঘটায় না। এছাড়াও বিড়াল ঘরের ক্ষতিকারক
কীটপতঙ্গ বা ইঁদুর মেরে ফেলে ঘরকে সুরক্ষা দেয় ও
স্বাস্থ্যসম্মত রাখে।
আল্লাহতালা পবিত্র কোরআন মাজীদে তার সৃষ্টি প্রাণীকুলার
প্রতি সদয় ও দয়া দেখাতে বলেছেন। তারই উত্তম উদাহরণ আমাদের
নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)। নবীজির এক সাহাবী, নাম আবু
হুরায়রা (রাঃ) খুব বিড়াল ভালবাসতেন, তাই তিনি তাকে নাম
দিয়েছেন আবু হুরায়রা অর্থাৎ বিড়ালের পিতা। মূল কথা ইসলামে
বিড়াল পোষা সম্পূর্ণ জায়েজ এবং এটি অতি পুণ্যের কাজ
হিসেবে বিবেচিত।
বিড়ালের সবচেয়ে বড় শত্রু প্রাণী কোনটি
বিড়াল একটি ছোট নিরীহ প্রাণী, যা সাধারণত মানুষের ঘরোয়া
পরিবেশে পোষা হয়ে থাকে। বিড়াল সাধারণত অন্য কোন প্রাণীর
প্রতি আক্রমণাত্মক ভাব প্রকাশ করে না। তবে বিড়ালের
সবচেয়ে বড় ও প্রধান শত্রু হলো কুকুর। এছাড়াও বিভিন্ন
ধরনের শিকারী প্রাণী যেমনঃ বাঘ, সিংহ, চিতাবাঘ এবং
অন্য বড় বিড়াল, ঘরে পোষা বেড়ালের শত্রু
হিসেবে বিবেচিত।
তবে অনেক সময় সামাজিকীকরণের মাধ্যমে বিড়াল এবং কুকুর একই
বাড়িতে পোষা যেতে পারে। একই বাড়িতে বিড়াল এবং কুকুর
পুষলে একে অন্যের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ প্রদর্শন করে না।
এজন্য আপনাকে দুইটি প্রাণীর মধ্যে সমঝোতা বা সামাজিকীকরণ
করতে হবে। উভয় প্রাণী দুটিকেই বোঝাতে হবে তারা এই বাড়ির
সম্পদ বা এই বাড়িটি তাদের নিজেদের এবং একজন অন্যজনের
প্রতি বন্ধুসুলভ সম্পর্ক গড়ে তুলতে বিভিন্ন রকমের পদক্ষেপ
নিতে হবে। আবার অনেক সময় পরিবেশগত কারণে মানুষ, বিড়ালের
জন্য শত্রু হয়ে থাকে।
কোন রঙের বিড়াল কেমন হয়
ইসলামে বিড়াল পালনের উপকারিতা সম্পর্কে বলা থাকলেও কোন
রঙের বিড়াল পুষতে হবে এর কোন সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না।
তবে আমরা আমাদের ঘরে বা বাসা বাড়িতে বিভিন্ন রং এর বিড়াল
পুষে থাকি। বিড়ালের রঙের সাথে তার স্বভাবের ভিন্ন ভিন্ন
পার্থক্যের বৈজ্ঞানিক কোন প্রমাণ নেই। তবে বিড়ালের
বিভিন্ন জাত ও রং নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ধরনের ধারণা বা
বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে। রঙের সাথে বিড়ালের স্বভাবজাত
কিছু বৈশিষ্ট্যের যে প্রচলিত ধারণা বিদ্যমান তা কয়েকটি
নিচে দেওয়া হল।
- সাদা রঙের বিড়ালঃ সাদা রঙের বিড়াল সাধারণত একটু লাজুক এবং শান্ত প্রকৃতির হয়ে থাকে। এই রঙের বিড়াল বাড়ির মানুষের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে একটু সময় নেই। এরা সাধারণত অনেকটা অভিজাতপূর্ণ ভাব প্রদর্শন করে।
- কমলা রঙের বিড়ালঃ কমলা রঙের বিড়াল সাধারণত মানুষের সাথে খুব মিশুক, আদুরে এবং চঞ্চল স্বভাবের হয়ে থাকে। এরা মানুষের সঙ্গে মিশতে বেশি পছন্দ করে এবং অনেক বুদ্ধিমান হয়ে থাকে।
- কালো রঙের বিড়ালঃ কালো রঙের বিড়াল নিয়ে আমাদের সমাজে বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কার প্রচলিত আছ। সাধারণত এদেরকে অশুভ বা কু-লক্ষণের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। তবে বাস্তবে এরা অনেক বুদ্ধিমান, অনুগত এবং শান্ত স্বভাবের হয়ে থাকে।
- মিশ্রিত রঙের বিড়ালঃ এই জাতীয় বিড়াল সাধারণত সাদা, কালো এবং কমলা রঙের সমন্বয়ে হয়ে থাকে। এই বিড়ালগুলো বেশি কৌতুহলী, চঞ্চল ও স্বাধীনচেতা হয়ে থাকে। মিশ্রিত রঙের বিড়াল গুলোর মধ্যে ৯৯% বিড়ালই স্ত্রী বিড়াল হয়ে থাকে। বিভিন্ন সংস্কৃতিতে এদেরকে ভাগ্যের প্রতীক হিসেবে মনে করা হয়।
- ধূসর বা নীল রঙের বিড়ালঃ এ রঙের বিড়াল গুলো বেশি স্নেহপরায়ণ, বুদ্ধিমান এবং শান্ত প্রকৃতির হয়ে থাকে। এরা বেশি লাফালাফি না করে পরিবারের সদস্যদের সাথে খেলাধুলা করে সময় কাটাতে ভালোবাসে।
বিড়াল কি মোবাইল ফোন দেখতে পারে
বিড়াল মোবাইল ফোনের স্ক্রিন দেখতে পারে তবে, তাদের
দেখার ক্ষমতা মানুষের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। মানুষ
সাধারণত মোবাইল ফোনে স্ক্রিনের সকল ধরনের রং দেখতে
পারে যেটা বিড়ালের চোখে ধরা পড়ে না। বিড়াল মোবাইল
ফোনে নীল এবং হলুদ রং ভালোভাবে দেখতে পারে তবে লাল ও
সবুজ রং এর প্রতি এরা অতটা সংবেদনশীল নয়।
বিড়াল মোবাইল ফোনে স্থির ছবির চেয়ে চলমান বা নড়াচড়া করা বস্তুর প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়। মোবাইল ফোনের মধ্যে যখন মাছ বা পাখির কোন ভিডিও আসে তখন বিড়াল মনোযোগ সহকারে দেখে। তবে আপনার পোষা বিড়াল মোবাইল ফোনের মধ্যে নির্দিষ্টভাবে কি দেখছে তা বলা কঠিন। অনেক সময় লক্ষ্য করা যায় চলমান বা গেমের উজ্জ্বল বস্তুর প্রতি বিড়াল বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে এবং তা হাত দিয়ে স্পর্শ করার চেষ্টা করে। কখনও কখনও ফোনের স্ক্রিন বা সাউন্ড বিড়ালের মধ্যে কৌতূহল বা শিকারি মনোভাব জাগিয়ে তোলে। ইসলামে বিড়াল পালনের উপকারিতা আর্টিকেলের মধ্যে, বিড়ালের মোবাইল ফোন দেখার বিষয়টি একটি মজার ব্যাপার।
ইসলামে বিড়াল পালনের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুনঃ FAQ’S
প্রশ্নঃ বিড়াল পালা কি জায়েজ ?
উত্তরঃ ইসলামে বিড়াল পালা সম্পূর্ণ জায়েজ এবং বৈধ। মহানবী (সাঃ) বলেছেন, বিড়াল একটি উত্তম ও পবিত্র প্রাণী যা, তোমাদের আশেপাশে থাকে। নবী কারীম (সাঃ) বিড়ালকে খুব ভালবাসতেন এবং নিজেও বিড়াল পুষতেন।
উত্তরঃ ইসলামে বিড়াল পালা সম্পূর্ণ জায়েজ এবং বৈধ। মহানবী (সাঃ) বলেছেন, বিড়াল একটি উত্তম ও পবিত্র প্রাণী যা, তোমাদের আশেপাশে থাকে। নবী কারীম (সাঃ) বিড়ালকে খুব ভালবাসতেন এবং নিজেও বিড়াল পুষতেন।
প্রশ্নঃ কোন সময় বিড়াল বেশি ঘুমায় ?
উত্তরঃ একটি সুস্থ বিড়াল দিনে সাধারনত ১২ থেকে ১৬ ঘন্টা ঘুমিয়ে থাকে।
এর বেশির ভাগটাই কাটে দিনের বেলা এবং সন্ধ্যার আগে। সাধারণত বিড়াল
দিনের বেলা টানা ৮ থেকে ১২ ঘন্টা ঘুমাই।
প্রশ্নঃ বিড়াল কতদিন না খেয়ে থাকতে পারে ?
উত্তরঃ একটি পূর্ণ বয়স্ক বিড়াল শুধুমাত্র পানি খেয়ে এক থেকে
দুই সপ্তাহ বাঁচতে পারে। তবে ২৪ ঘন্টার বেশি সময় খাবার না খেলে
বিড়ালের লিভারে মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিড়াল পানি
না খেলে তিন থেকে চার দিন বেঁচে থাকে।
প্রশ্নঃ কালো বিড়াল কি শয়তানি কার্যক্রমে ব্যবহিত হয় ?
উত্তরঃ কালো বিড়াল অন্য সব বিড়ালের মতই নিরীহ প্রাণী, এদের কোন অশুভ
শক্তি বা শয়তানি ক্ষমতা নেই। তবে লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে কালো বিড়াল
যাদু টোনায় ব্যবহার করা হয়।
লেখকের শেষ কথা
ইসলামে বিড়াল পালনের উপকারিতা সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিস ও বর্ণনা উল্লেখ
থাকলেও আমরা কখনো কখনো জেনে বা না জেনে বিড়ালের প্রতি যত্ন নেওয়া
থেকে বিরত থাকি। আবার অনেক সময় আমরা বিড়ালসহ অন্যান্য নিরীহ প্রাণীর
প্রতি অন্যায় ও অসদাচরণ করে থাকে যা খুবই ঘৃণিত কাজ। তাই আমাদের উচিত
সর্বদা আল্লাহর সৃষ্টি প্রাণীকুলের প্রতি সদয় আচরণ ও দয়া দেখানো।
যাতে করে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও প্রিয় বান্দা হিসেবে পরিগণিত হতে
পারি।
আশা করছি, আপনি আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে ইসলামে বিড়াল পালনের
উপকারিতা কি এবং বিড়াল পালনে কি কি সুবিধা রয়েছে তার মোটামুটি ধারণা
পেয়েছেন। আপনার মূল্যবান সময় দিয়ে ধৈর্য সহকারে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি
পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আমাদের লেখাটি যদি আপনার বিন্দু পরিমাণ
ভালো লেগে থাকে বা উপকারে আসে তবে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার
অনুরধ রইল।
আরোও পড়ুনঃ
বিড়াল পালনের অপকারিতা বা ক্ষতিকর দিক সমূহ



“সফল প্লাস” এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url