বিড়াল মারা যাওয়ার আগে যে সকল ভাব প্রকাশ করে

বিড়াল মারা যাওয়ার আগে যে সকল ভাব প্রকাশ করে তা জানা প্রত্যেকটা বিড়াল প্রেমী মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ ঘরে পোষা বা শখের বিড়ালের মৃত্যু, পরিবারের সদস্যদের মনে শোকের ছায়া নামিয়ে দেয়।
বিড়াল-মারা-যাওয়ার-আগে

বাড়িতে একটি বিড়াল পোষা মানে নিজ সন্তানের মতই তাকে যত্ন করা, পরিচর্যা করা এবং অসুস্থ হলে সেবা করা হয়। তাই বিড়াল মারা যাওয়ার আগে যে সকল শারীরিক ও মানসিক লক্ষণ প্রকাশ করে থাকে সেগুলোর প্রতি খেয়াল করে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

বিড়াল মারা যাওয়ার আগে সাধারণত যে সকল শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়

  • খাবার খেতে অরুচিঃ বিড়াল মারা যাওয়ার আগে সাধারণত হঠাৎ করে খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দেয়, এমন কি পানিও খেতে চায় না। একটি সুস্থ বিড়াল অসুস্থ হলে এটাই তার প্রথম লক্ষণ।
  • শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়াঃ একটু সুস্থ বিড়ালের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ১০১ থেকে ১০২.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে কোন বিড়াল মারা যাওয়ার আগে তার শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশি কমে যায়। বিশেষ করে পায়ের পাতা এবং কান, যা বিড়ালের মৃত্যুর পূর্বাভাস দিয়ে থাকে।
  • শারীরিক ওজন হ্রাসঃ একটি বিড়াল মারা যাওয়ার আগে হঠাৎ করে খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেয়ার পাশাপাশি বিড়ালটির শারীরিক ওজন কমতে থাকে। বিড়ালটির শরীর শুকিয়ে যায় এবং রোগাক্রান্ত নিস্তেজ দেখায়।
  • মলত্যাগে নিয়ন্ত্রণ হারানোঃ বিড়াল মারা যাওয়ার আগে তার শরীরের অভ্যন্তরে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গুলো সঠিকভাবে কাজ করা কমিয়ে দেয়। যার ফলে বিড়াল মলত্যাগের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং যেখানে সেখানে প্রসাব বা মলত্যাগ করে ফেলে।

বিড়াল মারা যাওয়ার আগে সাধারণত যে সকল আচরণগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়

  • আড়ালে লুকিয়ে থাকাঃ যখন একটি বিড়াল অসুস্থ হয় তখন সে তার স্বভাবজাত প্রবৃত্তি অনুযায়ী কোন অন্ধকার বা নির্জন জায়গাতে লুকিয়ে থাকে। এমনকি সে নিজেকে জন মানব শূন্য জায়গাতে রাখতে চাই।
  • অতিরিক্ত ঘুমানো বা নিস্তেজতাঃ বিড়াল মারা যাওয়ার আগে শারীরিকভাবে অনেকটা নিস্তেজ হয়ে শুয়ে থাকে এবং কোনরকম নড়াচড়া করতে চায় না। অসুস্থ বিড়াল সাধারণত অনেক সময় শারীরিক দুর্বলতার কারণে ঘুমিয়ে থাকে। 
  • ব্যক্তিত্বের পরিবর্তনঃ ঘরে বা বাড়িতে পোষা বিড়াল সবসময় তার মালিকের গা ঘেঁষে থাকতে পছন্দ করে। কিন্তু যখন সে অনেক বেশি অসুস্থ হয় বা জীবনের শেষ প্রান্তে চলে আসে তখন মালিকের কাছ থেকেও দূরে থাকে, মোট কথা তার ব্যক্তিদের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। বিড়াল মারা যাওয়ার আগে তার এই ধরনের ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন বিড়ালপ্রেমী মানুষকে খুবই কষ্ট দেয়।

বিড়াল মারা যাওয়ার শেষ মুহূর্তের লক্ষন

বিড়াল মারা যাওয়ার শেষ মুহূর্তে শ্বাস-প্রশ্বাস অনেক ধীর, ভারী এবং অনিয়মিত হতে শুরু করে। এই সময়টাতে বিড়ালের চোখ, কান এবং হাত পা নাড়ানো বন্ধ হয়ে যায়, তার শরীরের অঙ্গ প্রত্যেঙ্গের প্রতিক্রিয়া ধীরে ধীরে থেমে যেতে থাকে। আপনি যদি দেখেন আপনার বিড়ালের এই ধরনের লক্ষণ গুলো দেখা যাচ্ছে  তবে আপনার বিড়ালকে বাঁচানো সম্ভব নয়।
বিড়াল-মারা-যাওয়ার-আগে

বিড়াল অসুস্থ হলে আপনার করণীয়

বিড়াল মারা যাওয়ার আগে সাধারণত এই ধরনের লক্ষণ প্রদর্শন করে থাকে। তাই আপনি যদি আপনার পোষা বিড়ালের এই সকল লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করেন তবে তাকে দ্রুত কোন ভালো ভেটেরিনারি ডাক্তারের কাছে নিয়ে চিকিৎসা করান। অন্যথায় অবহেলা অযত্নে আপনার শখের পোষা প্রাণীটি হারিয়ে ফেলতে পারেন।

এছাড়াও আপনি আপনার ঘরে পোষা বিড়ালটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন, যথাসময়ে তাকে বিভিন্ন ভ্যাকসিন দিন, বাইরের পরিবেশের বিড়ালের সাথে মেলামেশা করতে বিরত রাখুন, খাবার দেওয়ার সময় যথাযথ সিদ্ধ এবং পরিষ্কার পানি দেওয়া ইত্যাদি বিষয় গুলোর প্রতি সচেতন থেকে আপনার বিড়াল কে সুস্থ রাখতে পারেন।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

“সফল প্লাস” এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url