গর্ভাবস্থায় বাম কাত হয়ে শোয়ার উপকারিতা
গর্ভাবস্থায় বাম কাত হয়ে শোয়ার উপকারিতা
সম্পর্কে আমাদের দেশের, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের নারীরা অনেকাংশেই জানে না। তাই
তারা কিভাবে শুলে সন্তানের জন্য ভালো হবে, নিজের স্বস্তি লাগবে এবং শরীরের
বিভিন্ন অংশের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কার্যকরী প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে চিন্তিত
থাকে।
মনে রাখতে হবে গর্ভাবস্থা একজন নারীর জীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং লাজুক সময়। এই সময় একজন নারীকে সতর্কতার সাথে চলাফেরা, খাদ্যাভাসের প্রতি গুরুত্ব এবং শোয়ার নিয়ম এর উপর বিশেষ নজর দিতে হয়। তাই আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে গর্ভবতী মায়েদের, গর্ভাবস্থায় বাম কাত হয়ে শোয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানান দেয়ার জন্য শুরু করছি।
মনে রাখতে হবে গর্ভাবস্থা একজন নারীর জীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং লাজুক সময়। এই সময় একজন নারীকে সতর্কতার সাথে চলাফেরা, খাদ্যাভাসের প্রতি গুরুত্ব এবং শোয়ার নিয়ম এর উপর বিশেষ নজর দিতে হয়। তাই আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে গর্ভবতী মায়েদের, গর্ভাবস্থায় বাম কাত হয়ে শোয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানান দেয়ার জন্য শুরু করছি।
পেজ সূচিপত্রঃ গর্ভাবস্থায় বাম কাত হয়ে শোয়ার উপকারিতা
- গর্ভাবস্থায় বাম কাত হয়ে শোয়ার উপকারিতা
- বাম কাত হয়ে ঘুমালে বাচ্চার কি কি লাভ হয়
- গর্ভাবস্থায় কোন কাত হয়ে ঘুমানো বেশি ভালো
- গর্ভবতী অবস্থায় চিত হয়ে শোয়া যাবে না কেন
- গর্ভাবস্থায় কেমন বিছানায় শোয়া ভাল
- গর্ভাবস্থায় বেশি ঘুমালে কি ক্ষতি হয়
- গর্ভাবস্থায় বেশি বসে থাকলে যেসকল বিপদ হতে পারে
- গর্ভাবস্থায় পেটে চাপ লাগলে যে দুর্ঘটনা হতে পারে
- গর্ভাবস্থায় পেটে জরে আঘাত পেলে করণীয়
- গর্ভাবস্থায় খালি পেটে থাকলে যে বিপদ হতে পারে
- গর্ভাবস্থায় ঝুকে কাজ করা উচিত নয় কেন
- গর্ভাবস্থায় পেট শক্ত হলে কি বড় কোন বিপদ
- গর্ভাবস্থায় বাম কাত হয়ে শোয়ার উপকারিতা FAQ’S
- লেখকের শেষ কথাঃ
গর্ভাবস্থায় বাম কাত হয়ে শোয়ার উপকারিতা
গর্ভাবস্থায় বাম কাত হয়ে শোয়া মা এবং গর্ভের সন্তানের জন্য খুবই নিরাপদ,
উপকারী এবং আদর্শ পদ্ধতি। বাম কাত হয়ে শোয়ার মাধ্যমে শিশুর শরীরে রক্ত, পুষ্টি
এবং অক্সিজেনের সরবরাহ সর্বোচ্চ মাত্রায় নিশ্চিত হয়। এছাড়াও এই পদ্ধতিতে ঘুমালে
গর্ভবতী মায়ের হৃদপিন্ডের চাপ কমায়, হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে এবং শরীরের
ফোলা ভাব অনেকাংশে কম হয়।
গর্ভাবস্থায় বাম কাত হয়ে শোয়ার বিশেষ যে সকল উপকারিতা রয়েছেঃ
সঠিক মাত্রায় রক্ত ও পুষ্টি সরবরাহ
গর্ভের সন্তানের সঠিক বৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্যের জন্য সঠিক মাত্রায় রক্ত ও পুষ্টি
সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই কারণে একজন গর্ভবতী মাকে গর্ভের সন্তানের সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। গর্ভবতী নারী বাম কাত হয়ে শুলে
শরীরের প্রধান রক্তনালীর উপর চাপ অনেকটা কমে যায়। ফলে মায়ের হৃদপিণ্ড থেকে জরায়ু ও প্লাসেন্টায় রক্ত সহজে চলাচল করতে পারে, যার কারণে শিশু সঠিকভাবে বেড়ে
ওঠার এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য পর্যাপ্ত রক্ত ও পুষ্টি উপাদান পেয়ে থাকে।
কিডনির কার্যকারিতা বৃদ্ধি
বাম দিকে কাত হয়ে শোয়ার ফলে কিডনি, শরীর থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত তরল সহজে বের
করে দিতে পারে। যার ফলে একজন গর্ভবতী মায়ের হাত ও পা ফুলে যাওয়া বা ভ্যারিকোজ
ভেইনের (varicose veins) সমস্যার ঝুকি অনেকটাই কমে যায়। তাই গর্ভাবস্থায় কিডনির
কার্যকারিতা সঠিক রাখতে একজন গর্ভবতী মাকে বাম কাত হয়ে শোয়া উচিত।
হজমশক্তি ও বুকজ্বালা নিয়ন্ত্রণ
আমাদের শরীরে পাকস্থলী শরীরের বাম দিকে অবস্থিত হওয়ায়, বাম কাত হয়ে শুলে পাচক রস
সহজে নিচের দিকে কাজ করতে পারে। যার ফলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায় ফলে অ্যাসিডিটি ও বুকজ্বালার মতো সাধারণ সমস্যাগুলো থেকে রেহাই পাওয়া যায়। গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের শরীরের হরমোনের কার্যক্রমের বেশ পরিবর্তন হয় বিধায় খাবার গ্রহণ এবং শোবার নিয়মে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।
চিৎ হয়ে শোয়ার ঝুঁকি থেকে মুক্তি
গর্ভাবস্থার শেষের দিকে পিঠে বা চিৎ হয়ে শুলে শরীরের প্রধান শিরা 'ইনফেরিওর
ভেনাকাভা' (Inferior Vena Cava) তে জরায়ুর চাপ পড়ে। এতে মায়ের শরীরের রক্তচাপ
কমে যায় ফলে মাথা ঘোরা লাগতে পারে এবং শিশুর অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।
তবে গর্ভাবস্থায় বাম কাত হয়ে শুলে এই বড় শিরাটি মুক্ত থাকে। ফলে এই ধরনের
ক্ষতিকর ঝুঁকি থেকে মুক্তি পেতে গর্ভাবস্থায় বাম কাত হয়ে শোয়া উত্তম উপায়।
বাম কাত হয়ে ঘুমালে বাচ্চার কি কি লাভ হয়
একজন গর্ভবতী মায়ের ঘুমানোর পজিশন গর্ভের সন্তানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি
বিষয়। কারণ মায়ের শোয়ার ধরনের উপর পেটের সন্তানের শারীরিক গঠন বৃদ্ধি, রক্ত,
পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহের প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে। তাই গর্ভবতী মাকে শোয়ার
ব্যাপারে সচেতন হতে হবে যাতে করে গর্ভের সন্তানের শরীরে সঠিক মাত্রায় রক্ত ও
পুষ্টি উপাদানের সরবরাহের ব্যাহত না হয়।
গর্ভাবস্থায় বাম কাত হয়ে শোয়ার ফলে মায়ের হার্ট থেকে জরায়ু এবং
প্ল্যাসেন্টায় রক্ত চলাচল প্রক্রিয়া সহজ হয় এতে করে মায়ের শরীরের রক্ত চাপ
ঠিক থাকে। আর মায়ের শরীরের রক্ত চলাচল ঠিক থাকলে, রক্তের মাধ্যমে গর্ভের
সন্তানের মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ বজায় থাকে যা বাচ্চার সার্বিক
সুস্থতা নিশ্চিত করে।
তবে লম্বা সময় একটানা বাম কাত হয়ে শোয়া কষ্টকর হয়ে গেলে, কিছুক্ষণের জন্য
ডান কাত হয়ে ঘুমালেও কোন সমস্যা নেই। তবে কখনো চিত হয়ে শোয়া উচিত নয় কারণ এই
পদ্ধতিতে শুলে সন্তানের রক্ত সঞ্চালন প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়, যা গর্ভের সন্তানের জন্য বিপদ থেকে আনতে পারে।
গর্ভাবস্থায় কোন কাত হয়ে ঘুমানো বেশি ভালো
গর্ভাবস্থায় বাম কাত হয়ে শোয়া সবচেয়ে ভালো তবে অনেক বেশি সময় বাম কাতে শোয়া
কষ্টকর হয়ে গেলে কিছুক্ষণের জন্য ডান দিকে ফিরে শোয়া ভয়ের কিছু নয়। বাম কাতে
শুলে জরায়ু এবং প্রধান রক্তনালীতে চাপ কমে এবং শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে
এতে করে গর্ভের সন্তান সঠিকভাবে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ পায়, একই সাথে বামদিকে
কাত ফিরে শুলে মায়ের কিডনির কার্যকারিতা বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে গর্ভাবস্থায় বাম কাত হয়ে ঘুমালে লিভারের উপর চাপ কম পড়ে এবং
ভ্রূণের প্লাসেন্টায় রক্ত চলাচল ঠিক থাকে। তবে অনেক সময় ধরে একপাশে শুয়ে
থাকা কষ্টকর হয়ে গেলে মাঝে মাঝে ডানদিকে কাত ফিরে শোয়াটাও নিরাপদ।
মূলত গর্ভধারণের চতুর্থ মাস থেকে শিশুর আকৃতি ও ওজন বাড়া বোঝা যায়। এই সময়টা থেকে চিত
হয়ে শোয়া একেবারেই উচিত নয় কারণ চিত হয়ে শুলে শরীরের প্রধান রক্তনালী গুলো সংকুচিত
হয়ে যায় যা মা এবং শিশু শরীরে রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে মায়ের
শ্বাসকষ্ট এবং মাথা ঘোরার মত কারণ তৈরি হতে পারে।
আরামদায়ক ঘুমের কিছু টিপস
- অতিরিক্ত বালিশ ব্যবহার করুনঃ শোয়ার সময় পিঠের নিচে একটি, দুই হাঁটুর মাঝে একটি এবং পেটের নিচে একটি বালিশ গুঁজে শুলে কোমর ব্যথা কমে এবং শরীর তুলনামূলক বেশি আরাম পায়।
- মাথা উঁচু করে শোয়াঃ গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, আইরন জাতীয় সাপ্লিমেন্ট ওষুধ খাওয়ার কারণে অথবা ভুল খাদ্যাভ্যাসের জন্য বুক জ্বালাপোড়া বা এসিডিটির মত সমস্যা হতে পারে তাই শোয়ার সময় মাথার দিকটা কিছুটা উঁচু করে ঘুমানো উচিত।
- বাম দিকে ঘুরে ওঠার অভ্যাসঃ গর্ভাবস্থায় ঘুম থেকে ওঠার সময় হঠাৎ করে না উঠে, প্রথমে আস্তে আস্তে বাম দিকে অথবা একপাশ হয়ে বসে তারপর ওঠা উচিত। এতে করে কোমর বা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় টান লাগার ঝুঁকি কম থাকে।
গর্ভবতী অবস্থায় চিত হয়ে শোয়া যাবে না কেন
গর্ভাবস্থায় বাম কাত হয়ে শোয়ার উপকারিতা অনেক বেশি তাছাড়া ডান কাত হয়ে শোয়াও
নিরাপদ। তবে গর্ভবতী অবস্থায় চিত হয়ে শোয়া যাবে না, বিশেষ করে গর্ভধারণের
প্রথম তিন মাস চিত হয়ে শুইলেও এর পরবর্তী সময় অর্থাৎ চতুর্থ মাস থেকে শুরু করে
সন্তান জন্মানোর আগ পর্যন্ত চিত হয়ে শোয়া, মা এবং গর্ভের সন্তানের জন্য ক্ষতির
কারণ হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় চিত হয়ে শুলে জরায়ুর ওজনের কারণে মায়ের শরীরের প্রধান রক্তনালী
গুলোতে বেশি চাপ পড়ে ফলে হৃদপিন্ডে রক্ত চলাচল কমে যায় এবং গর্ভের শিশুর শরীরের
রক্ত এবং পুষ্টি সরবরাহ ব্যাহত হয়। এছাড়াও মায়ের শরীরে রক্তচাপ কমে যাওয়ার
কারণে মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট এবং বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা ঘটতে পারে। তাই একজন
সচেতন মায়ের উচিত তার গর্ভধারণের সময়সীমা বিবেচনা করে নিজের এবং সন্তানের
সুস্থতার জন্য সঠিক পদ্ধতিতে ঘুমানো বা বিশ্রাম নেওয়া।
গর্ভাবস্থায় কেমন বিছানায় শোয়া ভালো
একজন গর্ভবতী মায়ের শোয়া বা ঘুমানোর বিছানা কেমন হবে সেটি গর্ভাবস্থায় মায়ের
শরীরের জন্য অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ গর্ভাবস্থায় শোয়ার পজিশন
গর্বের সন্তানের উপর বিভিন্ন ধরনের প্রভাব ফেলে থাকে। সাধারণত মাঝারি-শক্ত বিছানা
বা ম্যাট্রিক্স গর্ভাবস্থায় মায়ের জন্য সবচেয়ে বেশি ভালো। এই ধরনের বিছানা
মায়ের শরীর এবং মেরুদন্ডের ভারসাম্য বজায় রেখে কোমরের ব্যথা দূর করতে সাহায্য
করে। পক্ষান্তরে অতিরিক্ত শক্ত বিছানাতে শোয়ার কারণে শরীর বা কোমর ব্যথা হয় আবার
খুব বেশি নরম বিছানায় ঘুমালেও মেরুদন্ডের স্বাভাবিক আকৃতি পরিবর্তন হয় বিভিন্ন
সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
গর্ভবতী মায়ের জন্য মেমোরি ফোম (memory foam) অথবা ন্যাচারাল ল্যাটেক্স (natural
latex) ম্যাট্রেস সবচেয়ে বেশি আরামদায়ক। কারণ এই জাতীয় ম্যাট্রেস এ শরীরের ওজন
সমানভাবে বন্টন হয় এবং শরীরের বিভিন্ন বাঁক অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নেই। আবার
ফোনের বিছানায় যদি তাপমাত্রা বেশি হয় বা গরম বেশি লাগে তবে জেল-ইনফিউজড
(Gel-Infused) মেমোরি ফোম বা শ্বাসযোগ্য কভারযুক্ত ম্যাট্রেস ব্যবহার করা
ভালো।
এছাড়াও গর্ভবতী মায়েরা প্রেগনেন্সি পিলো ব্যবহারের মাধ্যমে স্বস্তি ও আরামদায়ক
ভাবে শুতে পারেন। গর্ভাবস্থায় বাম কাত হয়ে শোয়ার উপকারিতা রয়েছে তাই আপনি
রাতে বা দিনে ঘুমানোর সময় পিঠ, পেট অথবা দুই পায়ের মাঝখানে লম্বা বালিশ ব্যবহার
করলে শরীরের ওজন কম অনুভূত হয় এবং বেশি আরাম পাওয়া যায়। একই সাথে পেটের ওজন
বালিশের সাথে মিশে শরীর ভারসাম্য বজায় থাকার মাধ্যমে গর্বের সন্তান আরামদায়ক
পজিশন পায়। যা আপনাকে এবং গর্ভে সন্তানকে স্বস্তি ও সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে।
গর্ভাবস্থায় বেশি ঘুমালে কি ক্ষতি হয়
গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম খুবই জরুরী। এতে গর্ভবতী মা
এবং গর্ভের সন্তানের যেমন সুস্থতা ও স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে
তেমনি অতিরিক্ত বা বেশি ঘুমালে এর বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে। সাধারণত
গর্ভাবস্থায় ০৯ ঘণ্টার বেশি ঘুমালে বা শুয়ে থাকলে সেটি মা এবং গর্ভের সন্তানের
জন্য বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমানো বা
শুয়ে থাকার ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পায় যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি
বাড়ায়। এছাড়াও রক্তচাপ বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ওজন, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পায়ে পানি
আসার মত সমস্যা সম্ভাবনা বাড়ে।
অতিরিক্ত ঘুমানোর কারণে গর্ভবতী মায়ের শরীরে রক্ত সঞ্চালন ও রক্ত চাপের
স্বাভাবিক ছন্দ বিঘ্নিত ঘটে। এর ফলে গর্ভস্থ শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি এবং গর্ভবতী
মায়ের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর বিরুপ প্রতিক্রিয়া পড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে শুয়ে
থাকার ফলে বা ঘুমালে ডায়াবেটিস এবং রক্তচাপের ঝুঁকি বহুগুনে বেড়ে যায়। এছাড়াও
অলসতা, বিষণ্ণতা, ও মেজাজ খিটখিটে হওয়ার মতো বিভিন্ন মানসিক সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার
সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
তাই একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন হালকা ধরনের ব্যায়াম এবং
কিছু সময় হাঁটা হাঁটি করা উচিত। গর্ভবতী মায়ের শারীরিক ক্লান্তি দূর এবং সুস্থ
থাকতে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট টাইমে ঘুমাতে যাওয়া এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ করা
অতিব জরুরী। গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের জন্য ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানো আদর্শ সময়ে
হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়াও কোন শারীরিক জটিলতা বা অতিরিক্ত ঘুমের সমস্যা
থাকলে একজন গাইনোলজিস্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
গর্ভাবস্থায় বেশি বসে থাকলে যেসকল বিপদ হতে পারে
গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের ও গর্ভের সন্তানের শারীরিক সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত
পরিমাণ বিশ্রামের প্রয়োজন রয়েছে। তাই বলে অধিক সময় একটানা বসে থাকা গর্ভবতী মা
এবং সন্তানের জন্য হুমকির কারণ হতে পারে। গর্ভবতী মায়ের দীর্ঘ সময় বসে থাকার
ফলে পায়ের শিরায় রক্ত জমা বাধার ঝুঁকি বেড়ে যায় যাকে মেডিকেলের ভাষায়
(ডিভিটি) ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস বলা হয়। অনেক সময় একটানা বসে থাকলে রক্তচাপ
বাড়ার ফলে গর্ভবতী মায়ের পায়ের পাতা বা গোড়ালি ফুলে যেতে পারে।
এছাড়াও দীর্ঘ সময় বসে থাকার ফলে শরীরের ওজনের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং কোমর ও
পিঠের তীব্র ব্যথা সহ মাংসপেশিতে টান লাগার সম্ভাবনা রয়েছে। গর্ভবতী মায়ের
শারীরিক কার্যকলাপ একেবারেই না হলে বিপাকীয় প্রক্রিয়ার গতি ধীর হয়ে যায় ফলে
এসিডিটি, বদহজম এমনকি কোষ্ঠকাঠিন্যর মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায়
দেখা গেছে দীর্ঘ সময় বসে থাকার ফলে গর্ভে সন্তানের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা
সৃষ্টি হয় এবং গর্ভের সন্তানের ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়।
অতিরিক্ত সময় বসে থাকার ফলে গর্ভবতী মায়ের শরীরে মেদ তৈরি হয় যার দরুন
ডায়াবেটিসের মাত্রা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই আপনি যদি অফিসের কাজের জন্য
বা অন্য কোন কারণে বেশি সময় বসে থাকার প্রয়োজন হয়, তবে প্রতি ৩০ থেকে ৪০
মিনিট পর পর একটু উঠে দাঁড়ান এবং দুই তিন মিনিটের জন্য হাঁটাহাঁটি করুন সম্ভব
হলে একটু স্ট্রেচিংও করতে পারেন। যদি অফিসে বিশ্রামাগার থাকে তবে
গর্ভাবস্থায় বাম কাত হয়ে শোয়ার উপকারিতা হাসিল করতে পিছপা হবেন না।
গর্ভাবস্থায় পেটে চাপ লাগলে যে দুর্ঘটনা হতে পারে
গর্ভাবস্থায় একজন নারীর জন্য খুবই সেনসিটিভ একটি সময়। এই সময় নারীরা শরীরের
সামান্য কিছুতেই বেশি হতাশ এবং ভীত হয়ে পড়ে। যেমন গর্ভাবস্থায় পেটে চাপ লাগা
বা শক্ত ভাব অনুভূত হওয়া খুবই সাধারণ একটি বিষয় কারণ, এই সময়টাতে হরমোনের
পরিবর্তনের সাথে সাথে জরায়ুর আকার বৃদ্ধ, কষ্টকাঠিন্য, এসিডিটি অথবা শিশুর
নড়াচড়ার কারণে পেটে চাপ বা শক্ত ভাব অনুভব হয়ে থাকে। তবে পেটে যদি প্রচন্ড
ব্যথা ওঠে, যৌনাঙ্গে রক্তপাত দেখা যায় অথবা শরীরে হঠাৎ করে জ্বর আসলে দ্রুত
চিকিৎসা পরামর্শ নিতে হবে।
গর্ভের সন্তান বড় হওয়ার সাথে সাথে জরায়ুর আকারও বৃদ্ধি পায়। এ কারণে মায়ের
পেটের চামড়া ও লিগামেন্টের প্রসারণ ঘটে যা চাপের অনুভূতি সৃষ্টি করে। আবার
প্রোজেস্টেরন হরমোনের কারণে গর্ভাবস্থায় মায়ের হজমশক্তি কমে যায়, যার ফলে পেট
ফাঁপা ও চাপের অনুভূতি হয়ে থাকে। অনেক সময় জরায়ুর ভিতরে শিশুর অবস্থান
পরিবর্তনের সময় লাথি মারলে পেটে শক্ত চাপ বা আঘাত অনুভূত হয়। এমনকি সন্তান
জন্মের শেষ ত্রৈমাসিকে (third trimester) জরায়ু, প্রসবের প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ও
মাঝে মাঝে পেট শক্ত বা টানটান হয়ে যায়।
আরোও পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় কোরআন পড়ার ফজিলত ও গুরুত্ব
গর্ভাবস্থায় শারীরিক পরিবর্তন ও জরায়ুর প্রসারণের কারণে এই ধরনের চাপ লাগা বা
শক্ত অনুভূত হওয়া স্বাভাবিক। তাই এই সময়টাতে শরীর ক্লান্ত লাগলে বাম কাত হয়ে
শুয়ে বিশ্রাম নিন কারণ গর্ভাবস্থায় বাম কাত হয়ে শোয়ার উপকারিতা অনেক বেশি।
আবার এই সময়টাকে গর্ভবতী মায়ের হজম শক্তি কমে যায় ফলে একবারে বেশি না খেয়ে
অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া উচিত এবং প্রচুর পানি পান করা নিজের এবং গর্ভের
সন্তানের জন্য খুবই ভালো। এছাড়াও গর্ভাবস্থায় সবসময় বসে না থেকে কিছুটা হাঁটা
চলাচল করা এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী কিছুটা সময় স্ট্রেচিং করা উত্তম।
গর্ভাবস্থায় পেটে জরে আঘাত পেলে করণীয়
গর্ভাবস্থায় একজন মাকে খুবই সতর্কতার সাথে চলাফেরা এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম করা
উচিত এই সময়টাতে একটু অসতর্কতার কারণে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
গর্ভাবস্থায় যদি কোন কারণে পেটে আঘাত লাগে তবে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের
শরণাপন্ন হতে হবে। কারণ গর্ভাবস্থায় পেটে আঘাত পেলে জরায়ুর ভেতরে কোন ধরনের
রক্তক্ষরণ অথবা ভ্রুনের কোন ক্ষতি হলো কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য চার থেকে ছয়
ঘন্টা ডাক্তারের পর্যবেক্ষণে থাকা উচিত।
গর্ভাবস্থায় পেটে আঘাত পেলে যদি নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখেন তবে কালক্ষেপণ না
করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হসপিটালে গমন করুনঃ
- যোনিপথ দিয়ে কোন ধরনের লালচে স্রাব বা রক্ত বের হলে।
- গর্ভের পানি ভাঙতে শুরু করলে।
- আঘাতের পর বিশ্রাম নেওয়ার পরেও যদি তলপেটে তীব্র ব্যাথা হতে থাকে।
- জরায়ু অস্বাভাবিক শক্ত হয়ে উঠলে।
- ভ্রুনের নড়াচড়া স্বাভাবিকের চেয়ে কম বা একেবারে বন্ধ হয়ে গেলে।
এছাড়াও মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত বমি হওয়া, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা খিঁচুনির মত সমস্যা
দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
গর্ভাবস্থায় খালি পেটে থাকলে যে বিপদ হতে পারে
গর্ভাবস্থায় একজন মা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম খাবার গ্রহণ করে কারণ এই সময়
খাবারের রুচি অনেকটাই কমে যায়। সাধারণত গর্ভধারণের দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে
মায়ের বমি বমি ভাব এবং খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে অনিচ্ছা দেখা দেয়। তবে
গর্ভাবস্থায় খালি পেটে থাকলে তা মা এবং সন্তানের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
দীর্ঘ সময় গর্ভবতী মা খালি পেটে থাকলে রক্তে শর্করার পরিমাণ হ্রাস পায় ফলে মাথা
ঘোরা, বমি বমি ভাব, এবং শারীরিক দুর্বলতা বাড়তে পারে। এভাবে যদি অনেকদিন চলতে
থাকে তবে গর্ভের শিশুর পুষ্টিহীনতা, শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং অকাল
প্রসবের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকলে সাধারণত যে সমস্যাগুলো হয়ে থাকেঃ
বমি ভাব ও মর্নিং সিকনেস বৃদ্ধিঃ
গর্ভাবস্থায় দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকলে এসিডিটি বাড়ে এবং 'মর্নিং সিকনেস' বা
বমি বমি ভাব ও মাথা ঘোরার মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় একজন মাকে
একবারে অনেক খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে কিছু সময় পরপর খাওয়া উত্তম পদ্ধতি।
হজমে সমস্যা ও গ্যাসঃ
গর্ভাবস্থায় হজমের সমস্যা ও গ্যাস তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক কিছু না কারণ এই
সময়টাতে বিভিন্ন ধরনের সাপ্লিমেন্ট ওষুধ গ্রহণ করা হয়। তবে এহা ছাড়াও
দীর্ঘক্ষণ পেট খালি থাকলে অতিরিক্ত গ্যাস তৈরি হয়, যার ফলে পেট ফাঁপা এবং
কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় দীর্ঘ সময় পেট খালি
রাখা উচিত নয়।
পুষ্টি ও শক্তির অভাবঃ
গর্ভাবস্থায় মা ও অনাগত সন্তান দুজনের জন্যই পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টির প্রয়োজন
হয়। যা মায়ের সুষম খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে গর্ভের সন্তান পেয়ে থাকে।
কিন্তু গর্ভধারিনী মা যদি খালি পেটে থাকে তবে মায়ের শরীরসহ গর্বের সন্তানের
পুষ্টি ও শক্তির অভাব দেখা দেয়। খালি পেটে থাকলে প্রয়োজনীয় ক্যালোরির ঘাটতি হয়
এবং মা অতিরিক্ত ক্লান্ত বোধ করেন।
গর্ভপাতের ঝুঁকিঃ
গর্ভাবস্থায় মা যদি সঠিক নিয়মে খাদ্য গ্রহণ না অর্থাৎ নিয়মিত দীর্ঘ সময় খাবার
গ্রহণ না করার অভ্যাস তৈরি হয় তবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা মাত্রাতিরিক্ত কমে
গেলে তা গর্ভের শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা থেকে গর্ভপাতের
মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অকাল প্রসবঃ
গর্ভাবস্থায় খালি পেটে থাকলে মায়ের শরীরে দীর্ঘদিন পুষ্টি ও শক্তির অভাবে অকাল
প্রসব (Preterm delivery) হতে পারে এবং বাচ্চার জন্ম ওজন কম হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে
যায়। তাই গর্ভাবস্থায় খালি পেটে না থেকে এমনকি সকালে ঘুম থেকে উঠে বিস্কুট বা
শুকনা জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত।
গর্ভাবস্থায় ঝুকে কাজ করা উচিত নয় কেন
গর্ভাবস্থায় গর্ভের সন্তানের জন্য সাধারণত একটি মায়ের শরীরের ওজন বৃদ্ধি পায়।
এ সময় বিভিন্ন কারণে শারীরিক দুর্বলতার জন্য শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন
হয়ে পড়ে। সে ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় ঝুঁকে কাজ করা মোটেও উচিত নয়। তবে
গর্ভধারণের শুরু থেকে প্রথম তিন- চার মাস পেটের আকৃতি ছোট থাকে বিধায় কিছু কিছু
কাজ ঝুঁকে করা নিরাপদ তবে এর পরবর্তী সময়ে ঝুঁকে কোন ভারী কাজ করা মোটেও উচিত
নয় এতে করে গর্ভবতী মায়ের কোমরে ব্যথা এবং গর্ভের সন্তানের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতি
হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের শরীরের রক্ত সঞ্চালন ও ভলিউম বৃদ্ধি পায়। ফলে এই
সময়টাতে কিছু সময় ঝুঁকে থেকে কোন কাজ করে হঠাৎ করে সোজা হলে বা উঁচু হলে চোখ
ঝাপসা হয়ে যায় ও মাথা ঘুরে যায়। শরীর দুর্বল থাকার কারণে এরকম পরিস্থিতি তৈরি
হলে পড়ে যেয়ে, আঘাতে গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হতে পারে। এছাড়াও ঝুঁকে কাজ করার
ফলে পেটের উপরে চাপ পড়ার কারণে পাকস্থলীর এসির উপরের দিকে উঠে আসে ফলে বুক
জ্বালাপোড়া ও হজমে সমস্যা হতে পারে।
এছাড়াও গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভবতী অবস্থায় একটানা ভারী কাজ বা বারবার ঝুঁকে
কাজ করার ফলে জরায়ুতে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়। ফলে অকাল প্রসাব বা সময়ের
আগেই বাচ্চা জন্মানোর ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই এই অবস্থায় সরাসরি ঝুঁকে কোন কাজ না
করে আস্তে আস্তে নিচু হয়ে বসুন অথবা যে কাজগুলো দাঁড়িয়ে থেকে করা যায় তা
দাঁড়িয়েই করার চেষ্টা করুন। গর্ভাবস্থায় বাম কাত শোয়ার উপকারিতা অনেক তাই
কাজের ফাঁকে ফাঁকে শরীরের ক্লান্তি দূর করার জন্য কিছু সময়ের জন্য শুয়ে বিশ্রাম
নেওয়া জরুরী।
গর্ভাবস্থায় পেট শক্ত হলে কি বড় কোন বিপদ
গর্ভাবস্থায় পেট শক্ত হওয়া সাধারণ একটি বিষয়, এতে গর্ভবতী মায়ের ভয় পাওয়ার
কিছু নেই। এই সময়টাতে জরায়ুর আকার বৃদ্ধি পায়,পেটে গ্যাস বা বদহজম, বাচ্চার
নড়াচড়া, এবং 'ব্র্যাক্সটন হিক্স' নামক ভুয়া প্রসব ব্যথার কারণে মূলত এমনটা হতে
পারে। এই ব্যথা সাধারনত ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ড মত হয়ে থাকে এবং অনিয়মিত হয়। তাই
গর্ভাবস্থায় সামান্য পেট শক্ত হওয়া দুশ্চিন্তার কিছু নেই তবে যদি অতিরিক্ত শক্ত
মনে হয় তবে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।
এছাড়াও গর্ভের শিশুর বৃদ্ধির সাথে সাথে জরায়ু প্রসারিত হতে থাকে যার কারণে
পেটের পেশিতে টান পড়ে, ফলে পেট শক্ত মনে হয়। আবার গর্ভধারণের শুরু থেকে হরমোনের
পরিবর্তন হতে থাকে যার ফলে হজম শক্তি হ্রাস পায়, এ কারণে গর্ভাবস্থায় পেটে
গ্যাস বা এসিডিটির জন্য কোষ্ঠকাঠিন্য হয়ে থাকে যার দরুন পেট ফুলে শক্ত হতে পারে।
অনেক সময় জরায়ুর ভেতর শিশু তার অবস্থান পরিবর্তন করলে শিশুর হাত, পা বা পিঠ
মায়ের পেটের চামড়ার সাথে চেপে লেগে থাকলে ওই অংশ শক্ত হয়ে উঠতে পারে। তবে একটা
বিষয় খেয়াল রাখতে হবে পর্যাপ্ত পানির অভাব এবং অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণে পেট
শক্ত হয়ে ওঠার ব্যথা তীব্র হয়ে থাকে।
গর্ভাবস্থায় বাম কাত হয়ে শোয়ার উপকারিতা FAQ’S
প্রশ্নঃ গর্ভবতী মায়ের দৈনিক কত ঘন্টা ঘুমানো উচিত?
উত্তরঃ গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের প্রতি রাতে ০৭ থেকে ১০ ঘন্টা ঘুমানো উচিত। কারণ
পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম মা এবং শিশুর সুস্থতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যে
কোনো মা, যিনি গর্ভাবস্থার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তিনি আপনাকে বলবেন যে এটা
সবসময় সম্ভব হয় না।
প্রশ্নঃ গর্ভবতী অবস্থায় চিত হয়ে শোয়া যাবে কি?
উত্তরঃ গর্ভধারণের প্রথম তিন মাস চিত হয়ে শোয়া ঝুঁকের কিছু নয় তবে চতুর্থ মাস
থেকে গর্ভবতী মায়ের পেট বড় হতে থাকে, গর্ভের শিশুও বাড়তে থাকে ফলে এই সময়
শরীর ভারী হয়। ডাক্তারদের মতে এই সময় থেকেই চিত হয়ে, উপুড় হয়ে বা পেটে ভর
দিয়ে শোয়া উচিত নয়। বরং কাত হয়ে শোয়া মা ও শিশুর জন্য ভালো।
প্রশ্নঃ গর্ভাবস্থায় সবচেয়ে কষ্টের মাস কোনটি?
উত্তরঃ গর্ভাবস্থায়ার প্রথম তিন মাস একজন নারীর জন্য বেশি কষ্টের হয়ে থাকে,
কারণ এই সময়টাতে হরমোনের পরিবর্তনে ঘটতে থাকে ফলে এই অবস্থার সাথে মানিয়ে নিতে
সময় প্রয়োজন হয়। আবার শেষের সময়টাতে সন্তান প্রসবের পূর্ব মুহূর্তে পেট বড়
হওয়ার কারণে কষ্ট বেশি হয়।
প্রশ্নঃ গর্ভাবস্থায় ঘুম না হওয়ার কারণ কী কী?
উত্তরঃ গর্ভাবস্থার শেষের তিন মাসে শিশুর নড়াচড়া বেড়ে যায় এই কারণে মায়ের
ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। এছাড়াও সন্তান প্রসবের পূর্ব মুহূর্তে মায়েদের বিভিন্ন রকম
মানসিক চিন্তার কারনেও ঘুম আসতে চায় না। আবার গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন হরমোনের
প্রভাবে নারীদের ওপর মানসিক চাপ ও উদ্বেগ অনেকটাই বেড়ে যায় এর ফলেও রাতে গাঢ়
ঘুম হয় না।
লেখকের শেষ কথাঃ
গর্ভাবস্থায় একজন নারীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পিরিয়ড। এই সময়টাতে মা’কে
খুবই সতর্কতা ও নিয়ম মেনে সকল কার্যক্রম করতে হয়। গর্ভাবস্থায় বাম কাত হয়ে
শোয়া মা ও গর্ভস্থ শিশুর সুস্থতার জন্য একটি উপকারী অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত। এই
ভঙ্গিতে শোয়ার ফলে মায়ের শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভালো থাকে যার দরুন শিশুর
কাছে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছাতে সহায়তা করে এবং মায়ের পিঠ, কোমর ও
পায়ের অস্বস্তি কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। তবে প্রত্যেক নারীর শারীরিক অবস্থা
ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় ঘুমের ভঙ্গি নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করে আরামদায়ক ও
নিরাপদ অবস্থানে বিশ্রাম নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সুস্থ গর্ভাবস্থা
নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের বিকল্প নেই।
এত সময় ধরে ধৈর্য সহকারে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য
ধন্যবাদ। গর্ভাবস্থায় বাম কাত হয়ে শোয়ার উপকারিতা লেখাটি পড়ে যদি আপনার বিন্দু
পরিমাণ উপকারে আসে তবে আমাদের লেখা সার্থক। আমাদেরকে আরও বেশি বেশি স্বাস্থ্য
সম্বন্ধে লেখার অনুপ্রেরণা যোগাতে আপনার পরিচিতদের সাথে লেখাটি শেয়ার করতে
অনুরোধ রইল।



“সফল প্লাস” এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url