পোষ্য প্রাণীর জন্য ঘর বা পরিবেশ প্রস্তুতের সম্পূর্ণ গাইড লাইন
আপনি একটি বন্য প্রাণীকে পোষ মানিয়ে আপনার ঘরোয়া পরিবেশে লালন পালনের মধ্যে অন্ন
রকম এক আনান্দ অনুভব করবেন। অনেক সময় আপনার একাকীত্ব দূর হবে এই পোষ্য প্রাণীর
উপস্থিতে। তবে একটি নতুন পোষ্য বা পোষ্য যোগ্য প্রাণীকে ঘরোয়া পরিবেশে আনার আগে
আপনার ঘরকে নিরাপদ (Pet-proofing) করাটা অতিব জরুরী।
কারণ একটা নিরাপদ ও যথার্থ আশ্রয়স্থল, প্রাণীটিকে নিশ্চিত করতে এবং আপনার সাথে বন্ধুসুলভ সম্পর্ক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আমরা জানবো কীভাবে আপনার বাড়িটিকে একটি নতুন পোষ্য প্রাণীর জন্য নিরাপদ ও যথার্থ আশ্রয়স্থল হিসেবে প্রস্তুত করবেন। যাতে নতুন পোষ্য প্রাণীটি নিজেকে নতুন পরিবেশে সহজে মানিয়ে নিতে পারে, আর আপনিও খুব সহজে তাদের যত্ন নিতে পারেন। চলুন, তাহলে শুরু করা যাক আপনার নতুন পোষ্যকে স্বাগত জানানোর ঘরোয়া প্রস্তুতি!
কারণ একটা নিরাপদ ও যথার্থ আশ্রয়স্থল, প্রাণীটিকে নিশ্চিত করতে এবং আপনার সাথে বন্ধুসুলভ সম্পর্ক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আমরা জানবো কীভাবে আপনার বাড়িটিকে একটি নতুন পোষ্য প্রাণীর জন্য নিরাপদ ও যথার্থ আশ্রয়স্থল হিসেবে প্রস্তুত করবেন। যাতে নতুন পোষ্য প্রাণীটি নিজেকে নতুন পরিবেশে সহজে মানিয়ে নিতে পারে, আর আপনিও খুব সহজে তাদের যত্ন নিতে পারেন। চলুন, তাহলে শুরু করা যাক আপনার নতুন পোষ্যকে স্বাগত জানানোর ঘরোয়া প্রস্তুতি!
পেজ সূচিপত্রঃ পোষ্য প্রাণীর জন্য ঘর বা পরিবেশ প্রস্তুতের সম্পূর্ণ গাইড লাইন।
- পোষ্য প্রাণীর থাকার জায়গা কেমন হবে?
- পোষ্য প্রাণীর জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র গুলো কি কি?
- পোষ্য প্রাণীর জন্য বিপদজ্জনক বা ক্ষতিকর জিনিস সমূহ
- পোষা প্রাণীর স্বাস্থ্য সচেতনতা ও পরিচর্যা
- অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং রাসায়নিক পদার্থ থেকে ঝুঁকি কমানো
- ঘরের আসবাব পত্রের সুরক্ষা দেয়া
- পোষা প্রাণীকে মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রদান
- পোষ্য কে ঘরোয়া পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া
- আপনার শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি
- পোষ্য প্রাণীর জন্য ঘর বা পরিবেশ প্রস্তুতের সম্পূর্ণ গাইড লাইনঃ FAQ's
- লেখক এর শেষ কথা
আপনার ঘরে নতুন কোনো পোষ্য প্রাণী (যেমন কুকুর, বিড়াল বা পাখি) পালনের আগে
পরিবেশকে তাদের জন্য নিরাপদ ও আরামদায়ক করা খুব জরুরি। নিচে কিছু সহজ ও
গুরুত্বপূর্ণ টিপস আলোচনা করা হলোঃ
পোষ্য প্রাণীর থাকার জায়গা কেমন হবে
- একটি সুন্দর ও পরিছন্ন জায়গা প্রস্তুতঃ পোষ্যে প্রাণীটির থাকার জন্য আপনাকে একটি সুন্দর ও পরিছন্ন জায়গা প্রস্তুত করতে হবে। নতুন পরিবেশে এসে প্রাণীটি দ্বিধাগ্রস্ত থাকতে পারে। তাই তাদের জন্য একটি শান্ত,মনোরম ও আরামদায়ক জায়গা তৈরি করা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটা হতে পারে আপনার ঘরের ভিতরে অথবা বাইরে কোন এক শান্তকোণে যেখানে তার জন্য একটি আরামদায়ক বিছানা থাকবে বা খাঁচার ব্যবস্থা রাখতে পারেন, যেটাকে সে নিজের মনে করবে এবং সে সেখানে নিজেকে নিরাপদ ভাবতে পারবে।
- স্থান নিরাপদ করা (Pet-Proofing): পোষ্যে প্রাণীটির থাকার জন্য যেই স্থান নির্ধারণ করেছেন সেই খানে থাকা খোলা জানালা, বারান্দার ফাঁক বা যেকোনো ছোট ফাঁটল ভালোভাবে বন্ধ করুন, যাতে তারা বাইরে বেরিয়ে যেতে না পারে বা আটকা না পড়ে। এছাড়াও বিভিন্ন ধরণের ক্ষতিকর জিনিসপত্র যেমন ঘরের মেঝেতে থাকা মাল্টি প্লাগ বা বৈদ্যুতিক তার, সুচালো বা ধারালো কাটার বা অন্য কিছু সরিয়ে রাখুন। পোষ্যে প্রাণীটির থাকার জায়গাটা পেট-প্রুফ এবং প্রটেক্টেড থাকতে হবে যেন ক্ষতিকর প্রাণীর কোবল থেকে রক্ষা পায়।
- মুক্ত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরিঃ পোষ্য প্রাণীটির জন্য আপনি আগে থেকেই তার ঘর বা থাকার জায়গা ভালোভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে নিন, যেন পুরোনো কিছুর গন্ধ বা জীবাণু না থাকে এবং মুক্ত খোলামেলা পরিবেশের ব্যবস্থা রাখুন যাতে পর্যাপ্ত আলো বাতাস চলাচল করতে পারে । পোষ্যের ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে বিশেষ করে কুকুর ছানা বা বিড়াল ছানার জন্য, কারণ অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক রাখা উচিত এতে প্রাণীটি সুস্থ ও সতেজ ভাবে বেড়ে উঠতে পারে।
আরোও পড়ুনঃ বাড়িতে কুকুর পোষা জায়েজ কিনা?
আপনি যদি একজন প্রকৃত প্রাণীপ্রেমী হয়ে থাকেন এবং আপনার ঘরে একটি পোষ্য
রাখতে চান তবে অবশ্যই সেই পোষ্য প্রাণীর জন্য ঘর বা পরিবেশ প্রস্তুতের
ক্ষেত্রে উক্ত বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে। মনে রাখবেন কোন পোষা প্রাণী যদি
তার আশপাশের পরিবেশকে নিরাপদ এবং স্বাচ্ছন্দ পূর্ণ মনে না করে তবে সে কখনোই
সেখানে থাকতে চাইবে না।
পোষ্য প্রাণীর জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র গুলো কি কি
- খাবার ও পানির পাত্রের ব্যবস্থা: পোষ্য প্রাণীর বয়স, উচ্চতা ও আকার অনুযায়ী খাবার ও পানির পাত্রের ব্যবস্থা করতে হবে। সবসময় পরিষ্কার পাত্রে খাবার এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রাখতে হবে। পাখি হলে ঝুলন্ত বা স্ট্যান্ড লাগানো খাবার পাত্রের ব্যবহার করা ভাল। এতে খাবার নষ্ট রোধ হয় ও খাবার পরিষ্কার থাকে।
- কলার ও আইডি ট্যাগ (Collar & ID Tag) ব্যবহার করাঃ পোষ্য প্রাণীর শরীরে কলার ও আইডি ট্যাগ এর ব্যবহার করুন এবং সম্ভব হলে স্মার্ট ট্র্যাকার (Smart Trackers) ব্লুটুথ ডিভাইস এর ব্যবহারও করতে পারেন, যাতে আপনার প্রিয় প্রাণীটি হারিয়ে গেলে সহজে খুঁজে পাওয়া যাই।
- বর্জ্য বা মলমুত্র পরিষ্কারের জন্যঃ বিড়ালের ক্ষেত্রে লিটার বক্স এবং লিটার স্যান্ড, আর কুকুরের জন্য টয়লেট প্যাড বা বর্জ্য তোলার ব্যাগ কিনে রাখুন। কারণ ঘরে পোষ্য প্রাণী পোষার জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা খুবই জরুরি।
- বিনোদনের জন্য কিছু খেলনাঃ পোষ্য প্রাণীর জন্য কিছু খেলনা কিনে নিন, যেন তারা সেগুলো দিয়ে খেলা করে আনান্দ পেতে পারে। কুকুর বা বিড়ালের দাঁত পরিষ্কার করার জন্য চিউয়িং খেলনা দিতে পারেন। পাখির ক্ষেত্রে ঝুনঝুন বা শব্দ করে এমন খেলানা দেয়া ভাল।
- গ্রুমিং সরঞ্জামঃ পোষ্য প্রাণীর পরিষ্কার পরিছন্নতার জন্য বিভিন্ন ধরণের গ্রুমিং সরঞ্জাম (যেমনঃ ব্রাশ, নখ কাটার যন্ত্র, ট্রিমার ও ক্লিপার, ত্বক ও লোম পরিচর্যা করার জন্য বডি ওয়াস, শ্যাম্পু, লোম অপসারণের ওয়াক্স বা ক্রিম ইত্যাদি) সংগ্রহ করে রাখুন।
পোষ্য প্রাণীর জন্য ঘর বা পরিবেশ প্রস্তুতের ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই উপরে
উল্লেখিত জিনিসের ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে হবে। এতে করে নতুন আগত প্রাণীটি একটি
সুন্দর পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাওয়ার পাশাপাশি আপনিও তাকে সহজে ও
সযত্নে লালন পালন করতে পারবেন।
পোষ্য প্রাণীর জন্য বিপদজ্জনক বা ক্ষতিকর জিনিস সমূহ
- বৈদ্যুতিক তার বা যন্ত্রঃ ঘরের মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বৈদ্যুতিক তার বা ডিভাইস গুলকে গুছিয়ে রাখুন যাতে পোষা প্রাণীটি সেগুলো দ্বারা শোক না পাই।
- তীক্ষ্ণ বা ধারালো বস্তুঃ বিভিন্ন ধরনের তীক্ষ্ণ বা ধারালো বস্তু যেমনঃ চাকু, ব্লেড, ছুরি, সুঁই ইত্যাদি ক্ষতিকারক জিনিসপত্র থেকে পোষা প্রাণীকে সাবধানে রাখুন।
- ছোট প্লাস্টিকের টুকরোঃ বোতলের রঙিন কর্ক, বিভিন্ন ধরণের বোতাম বা ছোট ছোট প্লাস্টিকের টুকরো পোষা প্রাণীটি মুখে দিতে পারে বা গিলে ফেলতে পারে তাই এদিকে খেয়াল রাখুন।
- আপনার ছোট বাচ্চাঃ অনেক সময় আপনার ছোট বাচ্চা রাগ করে বা না বুঝে পোষা প্রাণীটিকে আঘাত করতে পারে তাই তাদের থেকেও পোষ্যকে নিরাপদ রাখতে খেয়াল রাখুন।
পোষ্য প্রাণীর আচারন একটা ছোট বাচ্চার মতন তাই আপনাকে তার নিরাপত্তার ব্যাপারে
সচেতন থাকতে হবে। বাচ্চারা যেমন হাতের কাছে যা পায় মুখে দেয়, পোষ্য প্রাণীও
ঠিক তেমনই কৌতূহলী হয়ে একই কাজ করতে পারে তাই এ সকল বিপদজ্জনক বস্তু
তাদের নাগালের বাইরে রাখুন। মনে রাখবেন আপনি যদি পোষ্য প্রাণীর জন্য ঘর বা
পরিবেশ প্রস্তুতের ক্ষেত্রে ব্যর্থ হন তবে আপনার ঘর পোষ্য প্রাণীটির জীবনের
জন্য হুমকি স্বরূপ বা বিপদজনক।
পোষা প্রাণীর স্বাস্থ্য সচেতনতা ও পরিচর্যা
- ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহনঃ পোষ্যের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা সম্পর্কে আপনাকে সচেতন থাকতে হবে। নতুন পোষ্য আনার পর প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই আপনার উচিত একজন ভেটেরিনারি ডাক্তারের কাছে নিয়ে চেক-আপ করিয়ে নেওয়া। পোষ্যর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সর্বদা ডাক্তারের পরামর্শ নেয়ে উচিত।
- ডিওয়ার্মিংয়ের সময়সূচী জানাঃ পোষা প্রাণীর স্বাস্থ্য ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে ডিওয়ার্মিংয়ের সময়সূচী জানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ আপনার পোষা প্রাণীটি ক্রিমি আক্রান্ত হলে পুষ্টিহীনতা, খাওয়ার অরুচি বা তার স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে যাবে এমনকি মৃত্যুও হতে পারে তাই কুকুর বা বিড়ালের ক্ষেত্রে প্রতি ৩ মাস পরপর ডিওয়ার্মিং (কৃমি নাশ) করা উচিত।
- প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন বা টিকাঃ পোষা প্রাণীর স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বজায় রাখার জন্য সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন বা টিকা দিতে হবে কারণ সঠিক সময়ে এগুলো তাদের সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। পোষ্য প্রাণীর জন্য ঘর বা পরিবেশ প্রস্তুতের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও পরিচর্যা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং রাসায়নিক পদার্থ থেকে ঝুঁকি কমানো
- ঘরের ব্যবহিত ডাস্টবিনঃ আপনার ঘরের ব্যবহিত ডাস্টবিন বা ময়লা রাখার ঝুড়ি আটকে রাখুন, যাতে পোষ্য খাবার খুঁজতে গিয়ে অস্বাস্থ্যকর কিছু খেয়ে অসুস্থ হয়ে না পড়ে। অপরিষ্কার/বাসিপঁচা খাবার পোষা প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
- ঘর পরিষ্কারের রাসায়নিক পদার্থঃ ঘর পরিষ্কার করার রাসায়নিক পদার্থ (যেমনঃ ডিটারজেন্ট, পোকামাকড় মারার স্প্রে) ঢাকনাযুক্ত পাত্রে বা তালাবদ্ধ আলমারিতে রাখুন।
- কিছু বিষাক্ত গাছঃ আপনার বাড়িতে টবে জন্মানো কিছু গাছপালা (যেমনঃ লিলি, অ্যাজালিয়া) পোষা প্রাণীর জন্য বিষাক্ত তাই এসকল গাছপালা তাদের নাগালের বাইরে রাখুন।
- মানুষের খাবারঃ কিছু কিছু মানুষের খাবার (যেমনঃ চুইঙ্গাম, আইস্কিরিম, চকলেট বা রঙ্গিন পানীয়) পোষ্যের জন্য বিষাক্ত হতে পারে। তাই এই ধরণের খাবার জিনিস থেকে আপনার পোষা প্রাণীকে বিরত রাখুন।
আরোও পড়ুনঃ বিড়াল পালনের কি কি অপকারিতা রয়েছে?
বস্তুত প্রিয় প্রাণীর খাবারের প্রতি আপনাকে খুবই সচেতন থাকতে হবে। উচ্চতা বা
বয়স অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার বেছে নিতে হবে, এবং খাবারের ব্যাপারে প্রয়োজন
বোধে ভেটেরিনারি ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন কারণ হঠাৎ করে খাবারের ধরন
পরিবর্তন করলে, এতে তাদের হজমের সমস্যা হতে পারে।পোষ্য প্রাণীর জন্য ঘর বা
পরিবেশ প্রস্তুতের মধ্যে সঠিক খাদ্য অভ্যাস বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
বিষয়।
ঘরের আসবাব পত্রের সুরক্ষা দেয়া
পোষা প্রাণী আপনার ঘরের আসবাবপত্র কামড়াতে বা আঁচড়াতে পারে, তাই দামী জিনিসপত্র
ঢেকে রাখুন এবং এসকল মূল্যবান জিনিসের প্রতি পোষ্যে প্রাণীর ঝোঁক কমানোর জন্য
বিভিন্ন ধরণের খেলনা, স্ক্র্যাচিং পোস্ট বা চিবানোর খেলনা দিন । এতে করে পোষ্য
প্রাণীটি থেকে ঘরের আসবাবপত্র সুরক্ষায় থাকবে। পোষ্য প্রাণীর জন্য ঘর বা
পরিবেশ প্রস্তুতির মধ্যে নিজের ঘরের আসবাবপত্রের সুরক্ষা দেওয়াও একটি বিশেষ
প্রস্তুতি।
পোষ্য প্রাণীকে ঘরে আনার প্রথম দিকে এ ব্যাপারে আপনাকে বেশি সচেতন থাকতে
হবে। পরবর্তীতে প্রাণীটি যখন ঘরোয়া পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে থাকবে তখন
ঘরের আসবাবপত্র সুরক্ষার ব্যাপারে আপনাকে ততটা দুশ্চিন্তা করতে হবে না। কারণ
ততক্ষণে সে ঘরোয়া পরিবেশে থাকার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ফেলবে।
পোষা প্রাণীকে মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রদান
পোষ্য প্রাণীর জন্য ঘর বা পরিবেশ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে যদি কুকুর পোষা পছন্দ করেন
তবে তাকে,‘ছদ্দ নাম ধরে ডাকা’, (Come,Go,Stop,Run) ইত্যাদির মতো মৌলিক কমান্ডগুলো
শেখান। এতে করে সেই প্রাণীর মধ্যে সৃজনশীলতার সৃষ্টি হয় এবং আপনার প্রতি
আনুগত্যের লক্ষণ দেখাবে। বিড়াল হলে লিটার বক্স ব্যবহার করার প্রশিক্ষণ দিন যেন
ঘরের পরিবেশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকে। এছাড়াও তাদের খারাপ ভালো কাজের জন্য
পজেটিভ বা নেগেটিভ ইম্প্রেশন গুলো বোঝানোর চেষ্টা করুন, যেমনঃ ভালো কাজ করলে
ভালবাসা বা আদর করা এবং খারাপ কাজ করলে রাগ বা ধমক দেওয়ার মত ইম্প্রেশন দেখানো
ইত্যাদি।
পোষ্য কে ঘরোয়া পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া
আপনার নতুন পোষ্য প্রাণীটি ঘরে আনার পর কিছু দিন তাকে পুরো বাড়ি ঘুরে ফিরে
দেখার সুযোগ দিন, তবে পোষ্যকে কখনো একা ছাড়বেন না, হারিয়ে যেতে পারে বা কোন
কিছু দেখে ভয় পেতে পারে। নতুন জায়গায় আনার পর পোষ্যকে ভালোবাসুন এবং তার সাথে
কিছুটা সময় কাটান, যাতে সে নিজেকে দ্রুত ঘরোয়া পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে পারে
এবং সেই বাড়িটিকে তার বাড়ি মনে করতে পারে। আপনি যদি পোষ্য প্রাণীর জন্য ঘর বা
পরিবেশ প্রস্তুতের ক্ষেত্রে যথার্থ বিষয়গুলো খেয়াল রাখেন তবে
পোষ্য প্রাণীটি দ্রুত মানিয়ে নিবে।
পোষ্য প্রাণীটি যত কম সময়ে বাড়ির পরিবেশকে নিজের জন্য নিরাপদ মনে করবে
তত তাড়াতাড়ি আপনার সাথে তার সখ্যতা গড়ে উঠবে। প্রাণীটি যখন ঘরোয়া পরিবেশে
থাকতে থাকতে নিজেকে ঘরের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে পারবে তখন খেয়াল করবেন
মানুষের মতই সে ঘরের ডিসিপ্লিন মেনে চলছে। যেখানে সেখানে নোংরা করা অথবা ঘরের
বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙ্গা বা নষ্ট করা থেকে বিরত থাকছে তবে এমনটা হতে বেশ
কিছুদিন সময় লাগবে।
আপনার শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি
পোষ্য প্রাণীর জন্য ঘর বা পরিবেশ প্রস্তুতের ক্ষেত্রে, শুধু ঘরের প্রস্তুতি
নয়, আপনার মানসিক প্রস্তুতিও নিতে হবে। কারণ সেই আপনাকে বন্ধুর মত সঙ্গ
দিবে, আনান্দ দিবে তবে প্রথম কয়েকদিন তারা নতুন পরিবেশে এসে একটু ভয়ে থাকবে
বা নতুন আচরণ দেখাবে। সেই সময়টা তে আপনি ধৈর্য হারাবেন না বরং তাদের সাথে নরম
আচরণ করুন।
নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে তাদের কিছুটা সময় লাগবে। সেই সময়ই অব্দি আপনাকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। এছাড়াও আপনি আপনার বাড়ির নিকটস্থ ভালো ভেটেরিনারি ক্লিনিকের ফোন নম্বর কাছে রাখুন যাতে বিশেষ প্রয়োজনে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে তাদের কিছুটা সময় লাগবে। সেই সময়ই অব্দি আপনাকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। এছাড়াও আপনি আপনার বাড়ির নিকটস্থ ভালো ভেটেরিনারি ক্লিনিকের ফোন নম্বর কাছে রাখুন যাতে বিশেষ প্রয়োজনে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
পোষ্য প্রাণীর জন্য ঘর বা পরিবেশ প্রস্তুতের সম্পূর্ণ গাইড লাইনঃ FAQ's
প্রশ্নঃ বিড়াল পোষা কি জায়েজ ?
উত্তরঃ হ্যাঁ ! বিড়াল পোষা জায়েজ এবং বিড়ালকে পবিত্র প্রাণী হিসেবে গণ্য
করা হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বিড়াল পছন্দ করতেন।
প্রশ্নঃ ঘরে বিড়াল পায়খানা করলে কি হয়?
উত্তরঃ ঘরে বিড়াল পায়খানা করলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে তাই এই ব্যাপারে
পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রশ্নঃ কুকুর পোষা হালাল না হারাম ?
উত্তরঃ শখ করে অথবা ঘরের ভিতরে কুকুর পোষা নাজায়েজ বা হারাম। তবে
প্রয়োজনে অথবা নির্দিষ্ট কোন কাজের জন্য কুকুর পোষা যেতে পারে।
যেমনঃ শিকার করা, গবাদি পশু, ক্ষেত-খামার বা বাড়ী পাহারা দেয়া
ইত্যাদি।
প্রশ্নঃ পাখি পোষা কি জায়েজ ?
উত্তরঃ শখের বসে খাচায় পাখি পোষা জায়েজ তবে পাখির যত্ন, পর্যাপ্ত খাবার
এবং পানির ব্যবস্থা করা উচিত। বন্য বা মুক্ত পাখি ধরে এনে খাঁচায় বন্দি
করা অনুচিত, বরং খাঁচায় অভ্যস্ত পাখি পোষা যেতে পারে।
লেখক এর শেষ কথা
পোষ্য প্রাণীর জন্য ঘর বা পরিবেশ প্রস্তুতের সম্পূর্ণ গাইড লাইন সম্পর্কে জানা
প্রতিটি প্রানিপ্রেমী মানুষদের বিশেষ প্রয়োজন। কারণ একটি নতুন পোষ্য প্রাণী
আপনার ঘরের একজন নতুন সদস্য এবং আপনার পরিবারে আনন্দের এক ভিন্ন ধর্মী উৎস।
তাদের জন্য ঘর প্রস্তুত করে নিজের পরিবারের সাথে রাখলে এক মায়ার সম্পর্ক গড়ে
উঠে।
তাদের সঠিক পরিচর্যা ,যত্ন, পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত, নিরাপত্তা প্রদান করা সহ
এবং বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দান করতে হবে। পোষ্য প্রাণী ভেদে তাদের আলাদা
আলাদা বৈশিষ্ট্যে হয়ে থাকে তাই তাদের ব্যক্তিগত চাহিদা ব্যাপারে আপনাকে সচেতন
থাকতে হবে এবং সে অনুযায়ী যত্ন নিতে হবে। একটি সুস্থ সুন্দর আকর্ষণীয় পোষা
প্রাণী বন্ধু আপনার জীবনকে আরও আনন্দময় ও রোমাঞ্চকর করে দিতে পারে।
এত সময় ধরে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা করছি
এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে পোষ্য প্রাণীর জন্য ঘর বা পরিবেশ কিভাবে প্রস্তুত
করতে হয়, তার বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।
আরোও পড়ুনঃ ফাউমি মুরগি পালন পদ্ধতি



“সফল প্লাস” এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url